সোমবার , ১৮ মে ২০২৬ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আরও
  5. ইসলাম
  6. করোনাভাইরাস
  7. খাদ্য
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সর্বশেষ

কিশোরগঞ্জে গরু হাটের ইজারা নিয়ে তোলপাড়

প্রতিবেদক
tulpar
মে ১৮, ২০২৬ ৬:২৪ অপরাহ্ণ

নিজেস্ব প্রতিবেদক ★
কিশোরগঞ্জের নিকলীর জারুইতলার গরুর হাটের ইজারা নিয়ে সারা জেলায় তোলপাড় সৃস্টি হয়েছে। আওয়ামীলীগ থেকে এক নেতার হঠাৎ বিএনপির প্রভাব। বলছি ডিএমপি’র সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ-এর ব্যাংক‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দার এর কথা। তিনি আবারও কিশোরগঞ্জ জেলায় আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের ২১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ উঠেছিলো, ওই নির্বাচনে জেলা পুলিশকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তাকে বিজয়ী করা হয়েছিল, যা সে সময় ছিল ‘ওপেন সিক্রেট’।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোকাররম সর্দার বেকায়দায় পড়েন এবং গ্রেপ্তারও হন। তবে অদৃশ্য ক্ষমতা ব্যবহার করে, না কারণে তিনি দ্রুতই কারামুক্ত হন। পরে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপি ঘরানার প্রভাবশালী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেন। বর্তমানে সামাজিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনেও নিজের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জেলার অন্যতম বৃহৎ গরুর হাট—নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের গুপি রায়ের হাটের ইজারা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এখানে ঘটেছে বড় ধরনের ‘তেলেসমাতি’।

বিগত ১৪৩২ বঙ্গাব্দে হাটটির ইজারামূল্য ছিল ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে সেই একই হাট মোকাররম সর্দার ইজারা পেয়েছেন মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইজারামূল্য কমেছে আড়াই কোটিরও বেশি।

এ নিয়ে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকার যেখানে বিপুল রাজস্ব হারালো, সেখানে কীভাবে এত কম মূল্যে দেশের অন্যতম বড় গরুর হাটের ইজারা দেওয়া হলো?

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতি বুধবার বসে গুপি রায়ের হাট। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পশুর হাটে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় জমায়। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই এটি কিশোরগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাটে পরিণত হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা হচ্ছিল, এবার ইজারামূল্য আরও বাড়বে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এ বছর হাটটি মাত্র সোয়া কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণত এক বছরের তুলনায় পরবর্তী বছরে ইজারার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু গুপি রায়ের হাটের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। প্রকৃত সম্ভাব্য আয় গোপন করে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় কম মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিধি অনুযায়ী তিনবার দরপত্র আহ্বানের সুযোগ থাকলেও প্রথম বিজ্ঞপ্তিতেই ইজারা সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে হাটটির ইজারামূল্য ছিল প্রায় ২৫ লাখ টাকা। গত বছরের দর ছিল ব্যতিক্রম। এত বেশি মূল্যে এবার কেউ আগ্রহ দেখায়নি। ফলে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ দরদাতার প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা ছিল। তাই তাকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। যদি যোগ্যতায় ঘাটতি থাকত, তাহলে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা যেত।

সর্বশেষ - সর্বশেষ