বৃহস্পতিবার , ২৮ মে ২০২৬ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আরও
  5. ইসলাম
  6. করোনাভাইরাস
  7. খাদ্য
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সর্বশেষ

স্বাস্থ্য মন্ত্রী পরিদর্শন পর দিনই রোগীকে দিলো মেয়াদ উর্ত্তীণ রুটি

প্রতিবেদক
tulpar
মে ২৮, ২০২৬ ৬:০৩ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোটার★
কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতালের খাবারের মানও পরিদর্শন করেন বলে জানা যায়।

তবে কয়েকজন রোগী ও স্বজনের দাবি, মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সেদিন তুলনামূলক ভালো মানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ সময়ে রোগীদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য, মন্ত্রীর সামনে একরকম, আর প্রতিদিন আরেকরকম অবস্থা।

এর আগেও হাসপাতালের খাবার নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল বলে জানান কয়েকজন স্বজন। তারা বলেন, কিছুদিন আগে এক রোগীকে কাঁচা কলা দেওয়ার ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

রোগীর ছেলে হুমায়ুন আহমেদ বলেন, আমার মাকে সুস্থ করার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু হাসপাতালে এসে যদি মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেতে হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? ঈদের দিনের মতো বিশেষ সময়েও রোগীদের এমন খাবার দেওয়া খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো রোগীকে এ ধরনের খাবার না দেওয়া হয়।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সরবরাহের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে সিদ্দিকী এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আতাহার আলী টুটুল বলেন, কিছু দলীয় লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আগের দিনও তারা মন্ত্রীর সামনে হাসপাতালের খাবার নিয়ে বদনাম করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মন্ত্রী নিজেই খাবার খেয়ে এর মান ভালো বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ফোনে বক্তব্য দিয়ে লাভ নেই। সামনাসামনি কথা বলব।” পরে এ কথা বলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা অভিযোগ শুনেছি এবং সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রাথমিকভাবে যারা খাবার সরবরাহের দায়িত্বে আছেন, তারা জানিয়েছেন এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

তিনি আরও বলেন, রুটিটি ২৬ তারিখে তৈরি হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত মেয়াদ ছিল। অনেক সময় রোগীরা হাসপাতালের খাবার না খেয়ে বাইরে থেকে বা বাসা থেকে আনা খাবার খান। সেক্ষেত্রে হাসপাতালের দেওয়া রুটি বা খাবার কেবিনে পড়ে থাকতে পারে। পরে সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

আগের কাঁচা কলা বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কলা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল সেটি মূলত নেপালি কলা ছিল। সাগর কলা বেশি পেকে গেলে ভেতরের অংশ নরম হয়ে যায়। বিষয়টি কাঁচা কলা ছিল না।

উপপরিচালক আরও বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি রোগীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে। এখানে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রোগীদের আরও ভালো ও মানসম্মত সেবা কীভাবে দেওয়া যায়, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।

সর্বশেষ - সর্বশেষ