কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ★
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ফোনে কথা বলতে গিয়ে ইন্টার টিভির কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো. মাহফুজুল হক খান জিকুর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশোভন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নূর মো. শামসুল আলমের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে কথা বলতে ফোন করলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।
রোববার (১৮অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাংবাদিক জিকু খান এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে কথা বলতে তিনি ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে ফোন করেছিলেন। এ সময় চিকিৎসক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে পরিচালক তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক জিকু খানের অভিযোগ, ফোনালাপের একপর্যায়ে পরিচালক তাঁকে ‘তুই’ সম্বোধন করে বলেন, তুই তোর তারেক রহমানকে বল হাসপাতালে ডাক্তার দিতে, তুই আমাকে ফোনে বিরক্ত করছিস কেন? এ ধরনের ভাষা ও আচরণে তিনি মর্মাহত হয়েছেন বলে জানান।
জিকু খান আরও দাবি করেন, পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর মোবাইল ফোনটি লাউডস্পিকারে চালু ছিল। ফলে সেখানে উপস্থিত তাঁর সহকর্মী সাংবাদিক ও রোগীর স্বজনেরাও কথোপকথন শুনতে পান। তাঁদের সামনেই এভাবে কথা বলায় তিনি বিব্রত ও মর্মাহত হয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সাংবাদিক জিকু খানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, সহকর্মী সাংবাদিক ও রোগীর স্বজনদের সামনে লাউডস্পিকারে কথা বলার সময় পরিচালকের ‘তুই-তোকারি’ আচরণ এবং তারেক রহমানকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্যে তিনি মর্মাহত হয়েছেন। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
সাংবাদিক জিকু খান আরও বলেন, পরিচালকের কথাবার্তা ও অসদাচরণের বুঝা যায় সে কিছুটা মানসিকভারসাম্যহীন। সে কিভাবে এতো বড় একটা দ্বায়ীত্বে থাকেন। এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে তিনি জানান।
ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক জিকু খান ওই চিকিৎসককে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও দুর্নীতিবাজ বলেও অভিযোগ করেন।
তবে আর অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মরত ডাঃ নূর মো. শামসুল আলম গত ১৪ বছর ধরে আওয়ামীলীগ হয়ে কাজ করেছে। দলের ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনিও বিএনপি সমর্থিত হয়ে পড়েছেন। তিনি এই হাসপাতালে একই স্টেশনে গত ১৬ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নূর মো. শামসুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাইদুর রহমান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


















