নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তাঁর নিজ জেলা ও রাজনৈতিক সূতিকাগার বগুড়ায় পা রাখতে যাচ্ছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে তাঁর মনোনয়নপত্র এরই মধ্যে বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এই নির্বাচনি আবহের মধ্যেই প্রায় ১৯ বছর ১৮ দিন পর তিনি বগুড়া সফর করবেন, যা ঢাকার বাইরে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সফর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। দলীয় সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আগামী ১১ জানুয়ারি (রবিবার) তারেক রহমান সরাসরি বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সফরের বিস্তারিত সূচি অনুযায়ী, ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এক বিশাল গণ-দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমান সশরীরে উপস্থিত থেকে তাঁর মরহুমা মাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর সাথে অংশ নেবেন। এরপর তিনি সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। যাত্রাপথে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.)-এর মাজার জিয়ারত করার কর্মসূচিও তাঁর রয়েছে। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও শিবগঞ্জ আসনের প্রার্থীর নেতৃত্বে তাঁকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরের রিয়াজ কাজী লেনে অবস্থিত তাঁর প্রিয় বাসভবন ‘গ্রিন এস্টেট’ নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাড়িটি ২০০০ সালে সংস্কার করে ‘গ্রিন এস্টেট’ নাম দেওয়া হয়েছিল এবং ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই বাড়ি থেকেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ধারণা, নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ এবং সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবারও তিনি এই ঐতিহাসিক বাড়িতেই অবস্থান করবেন। নেতাকর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলায় বগুড়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সাথে এই সফর সফল করার যাবতীয় পরিকল্পনা সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার গাবতলী এলাকা থেকেই ২০০১ সালে তারেক রহমান দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবনে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি তাঁর নির্বাচনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবারও বগুড়াকেই বেছে নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বগুড়া সফর কেবল একটি নির্বাচনি প্রচারণাই নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এক বিশাল টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। বগুড়া থেকে শুরু হয়ে এই সফরের প্রভাব সারা দেশের নির্বাচনি মাঠেই ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে বিএনপি সমর্থকরা মনে করছেন।


















