আজ ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জের কণ্ঠশিল্পী আনতারার চলে যাওয়ার এক বছর আজ

Spread the love

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি.
কিশোরগঞ্জের উদিয়মান কন্ঠশিলল্পী ছিল আনতারা মোকারমা আনিকা। যার ভিতরে ছিলনা কোন অহংকার। যেন ঝলমলে তারুণ্যের প্রতীক। গানপাগল ১৮ বছরের এই তরুণী সরব ছিল কিশোরগঞ্জের সংস্কৃতি অঙ্গণে। ফেসবুকে তার ইন্ট্রোও ছিল গানকেন্দ্রীক ‘আমি গান গাইতে ভালোবাসি, গান দিয়ে জীবনের সব কষ্ট-দুঃখ ভুলতে চাই। জেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম যেখান থেকেই আমন্ত্রণ আসতো, পাগলের মতোই সেখানে ছুটে যেতো। অনুষ্ঠান-কনসার্ট মাতাতো তার দরদী কণ্ঠের গান দিয়ে।

কিশোরগঞ্জে সবচেয়ে জনপ্রিয় তোলপাড় সংগীত আড্ডা লাইভ অনুষ্ঠানে আন্তাতারা বেশ কয়েকবার গানের লাইভ করে অল্প সময়ে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল সে। হালের ক্রেজ ফেসবুক লাইভেও গাইতে দেখা যেতো তাকে। নিজের গাওয়া গান দিয়ে সাজিয়েছিল একটি ইউটিউব চ্যানেল। এসব কারণে কিশোরগঞ্জের শিল্প-সংস্কৃতির ভুবনে আনতারা মোকারমা ছিল এক পরিচিত ও প্রিয় নাম।
আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আন্তারা স্মৃতি সংসদের আয়োজনে তাদের বাসা বত্রিশে কিশোরগঞ্জ সাংস্কৃতি জগতের লোকজনের ঢল নেমেছে। শাহিনুর ইসলাম শাহিনের সভাপতিত্বে মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তাকে নিয়ে ঘন্টাব্যাপী আলোচনা ও দোয়ার মাফিল হয়েছে।
গত বছরের আজকের দিনে (৯ অক্টোবর) মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় গানপাগল এই তরুণীর কণ্ঠ থেমে যায় চির দিনের জন্য। পাখির মতো উড়াল দিয়ে সে চলে গেছে দূর-বহুদূর, যেখান থেকে ইচ্ছে করলেই আর ফিরে আসা যায় না। কষ্ট-দুঃখ ভুলতে সেই থেকে আর গান গাওয়া হয় না আনতারার!

উদীয়মান কণ্ঠশিল্পী আনতারা মোকারমার চলে যাওয়ার এক বছর আজ (শনিবার, ৯ অক্টোবর)। তার মৃত্যুতে আজো কাঁদছে তার পরিবার, বন্ধু-স্বজন।

গত বছরের ৯ অক্টোবর দিনটি ছিল শুক্রবার। পারিবারিক প্রয়োজনে মা-খালার সাথে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল আনতারা মোকারমার।

মা আসমা বেগমকে সাথে নিয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আনতারা যখন কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছে তখন আন্তঃনগর এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস হুইসেল বাজিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করেছে। মাকে নিয়ে ট্রেনটিতে ওঠতে দৌড় শুরু করে আনতারা।

এক পর্যায়ে ট্রেনটির নির্ধারিত কম্পার্টমেন্টের নাগাল পেলেও ওঠতে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে চলে যায় আনতারার দু’পা। মুহুর্তেই আনতারা দেহ ছিন্ন-ভিন্ন হয় ট্রেনের চাকায়। ঘটনাস্থলেই ছিন্ন-ভিন্ন নিথর দেহ ফেলে রেখে প্রাণপাখি উড়ে যায় তার।

আনতারা মোকারমা আনিকা কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ পানির ট্যাংকি এলাকার মোকাম্মেল হকের মেয়ে। লেখাপড়া আর গানচর্চার জন্য বসবাস করতো শহরের খরমপট্টি এলাকায়।

তোলপাড় সংগীত আড্ডা লাইভের মাধ্যমে তার শিল্প-সংস্কৃতি জগতে পদচারণা ঘটে। সংগঠনটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে প্রতি শুক্রবার লাইভ অনুষ্ঠানে দুইটি লাইভে যোগদানের মাধ্যমে সে শিল্পীদের মুখে আলোচনায় ওঠে আসে। পাশাপাশি বিভিন্ন মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করে স্ট্রেইজ মাতিয়ে রাখতো সে।

শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে গত বছর বাণিজ্য বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা পাস করেছিল আনতারা। নিচ্ছিল এলএলবিতে ভর্তির প্রস্তুতি। এমনই সময় ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ