আজ ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করিমগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফোঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসী

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়ায় মাদ্রাসায়ে রাহীমিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক (বাংলা) শামছুল হক চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে শিক্ষার্থী অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী ফোঁসে উঠেছে। তারা আজ শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মাদ্রাসায়ে রাহীমিয়ার মাঠে মাদ্রাসার শিক্ষক শামছুল হক চাঁন মিয়াকে অভিলম্বে অপসারণ এবং মাদ্রাসার ‘নাজিমে তালিমাত’ (সহকারী প্রধান) শিক্ষক মোহাম্মদ আলীকে মাদ্রাসায় ফেরত আনার দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সমাবেশে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শামছুল হক চাঁন মিয়া (বাংলা শিক্ষক) শ্রেণী কক্ষে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর প্রিয় শিক্ষক মোহাম্মদ আলী মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায় তাকে অপসারন করা হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পরায় সমাবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষক মোহাম্মদ আলীকে বহাল রাখার জোর দাবী জানায়।
মাদ্রাসার মোহতামিম মাও: আব্দুল গাফ্ফার এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মো: আবুল বাশার এর সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছু দিন পূর্বে মাদ্রাসার নাজিমে তালিমাত (সহ: প্রধান) শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে পাশ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ উঠলে এ ব্যপারে শিক্ষক মোহাম্মদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তিনি আর মাদ্রাসায় আসেননি। পরিচালনা কমিটির পক্ষথেকে তাকে অপসারন করা হয়নি বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে নাজিমে তালিমাত মোহাম্মদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাংলা শিক্ষক সামছুল হক চাঁন মিয়ার প্রতি ছাত্ররা অসুন্তুষ্ট হয়ে মাদ্রাসা প্রধানসহ পরিচালনা কমিটির কাছে অভিযোগ করে। শাসছুল হক চাঁন মিয়া তার বিরুদ্ধে ছাত্রদের অভিযোগের বিষয়টিতে আমার হস্তক্ষেপ রয়েছে ধারণা করে তার স্থানীয় ভাই-বন্ধুদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব কথা তুলে। এসময় কমিটির লোকজন আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ভয়ভীতি দেখায় তাই আমি মাদ্রাসায় আর আসিনি।
সমাবেশে করিমগঞ্জ উপজেলার যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, নাজিমে তালিমাত মোহাম্মদ আলীকে কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব রটিয়ে পুলিশির ভয় দেখিয়ে তারা হুজুরকে মাদ্রাসা ছাড়া করে। যতক্ষণ বাংলার শিক্ষক শাসছুল হক চাঁন মিয়াকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার এবং মোহাম্মদ আলী শিক্ষককে মাদ্রাসায় না আনা হয়, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, অভিভাবক মো: নজরুল ইসলাম, মো: কামরুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন রিটন, কবীর আহম্মেদ শাহীন, ওয়াসিম, সাজ্জাদ প্রমুখ। এছাড়াও মাদ্রাসার সাবেক ও বর্তমান দুইশতাধিক শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সভায় অংশ গ্রহণ করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ