আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করিমগঞ্জে মেয়ে সন্তান জন্ম হওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার.
স্ত্রী আফরোজা আক্তারের (২২) প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন স্বামী রুহুল আমিন (৩০)। স্বামীর বাড়ি থেকে বিতারিত হয়ে ছোট মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন অসহায় ওই নারী। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিয়ে কয়েক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও এলাকার লোকজন নিয়ে সালিস বৈঠক হয়। বৈঠকে স্বামী রুহুল আমিন সাফ জানিয়ে দেন তিনি মেয়ের বাবা ডাক শুনবেন না। সালিসে তাকে ধিক্কার জানানো হলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে এখন চলছে তোলপাড়।

সোমবার আফরোজার বাবার বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, করিমগঞ্জের নোয়াবাদ ইউনিয়নের সিন্দ্রিপ গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রুহুল আমিনের সাথে উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কামারহাটিয়া গ্রামের আবুল হাশেমের মেয়ে আফরোজার বিয়ে হয় ২০২০ সালে। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে রুহুলকে একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় দুই লাখ টাকার ফার্নিচার দেয়া হয়।

আফরোজা অভিযোগ করে বলেন ‘বাচ্চা যখন পেটে আসে তখন অসুস্থ হয়ে যাই। আট মাসের সময় আমি বাড়িতে চলে আসি। স্বামী আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলে। আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানা যায় আমার মেয়ে বাচ্চা হবে। এ খবর শুনেই বদলে যায় রুহুল। সে এর পর থেকেই আমার সাথে মোবাইলে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। আমাকে এক নজর দেখতেও আসেনি এবং জানিয়ে দেয় মেয়ে হলে তিনি তার মুখও দেখতে আসবেন না। এ পরিস্থিতিতে ২৫ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে জন্ম নেয় আমার মেয়ে সন্তান। নাম রাখি ‘নুসরাত’।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আফরোজা বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, মেয়ে নুসরাতের মুখ দেখে বাবার মন পাল্টে যাবে। কিন্তু তা আর হয়নি, নুসরাত হওয়ার একমাস পর, স্বামী রুহুল মোবাইল ফোনে আমার সাথে আর ঘর করবে না বলে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে দেয়।

আফরোজার ভাই আব্দুল হালিম জানান, বিয়েতে রুহুলকে একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় দুই লাখ টাকার ফার্নিচার দেয়া হয়। মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়ায় রুহুলের মন খারাপ হলে আমরা প্রস্তাব দেই প্রয়োজনে আরো দুই লাখ টাকা দেবো। তার পরও আমার বোনের সংসার টিকাতে পারিনি।

আফরোজার মেয়ে নুসরাতের বয়স এখন আট মাস। শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয় এলাকাবাসী। গত ২৮ আগস্ট জয়কা ইউনিয়ন পরিষদে সালিসের আয়োজন করা হয়। এতে জয়কা ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন, পাশের ইউনিয়ন গুণধরের চেয়ারম্যান নাজমুল শাকির নূরু শিকদারসহ তিন ইইনয়নের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। ওই সালিসেও কোনো কাজ হয়নি।

সালিসে উপস্থিত স্থানীয় শিক্ষক এমদাদুল হক বলেন, ‘রুহুল আমিন স্ত্রীর কন্যা সন্তান হওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হন। তিনি ছেলে সন্তান চেয়েছিলেন। আর এ কারণে তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দেন বলে সালিসে প্রমাণ হয়।

তিনি আরো বলেন, সালিসে উপস্থিত সবাই রুহুলকে বুঝিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে অনেকটা বাধ্য হয়ে লিখিত তালাকের ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে জয়কা ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন বলেন, সালিসে আফরোজার কোনো দোষত্রুটি দেখাতে পারেনি রহুল। তবে কেবল মেয়ে বাচ্চা হওয়ার কারণে তালাকের ঘটনা ঘটেনি। এর পেছনে আরো কারণ থাকতে পারে।

গুণধর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল শাকিব বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি, যেহেতু তাদের একটি মেয়ে সন্তান হয়েছে। সংসারটি যেন টিকে থাকে। কিন্তু রুহুলের কারণে সব চেষ্টা বিফল হয়।

রুহুল আমিন পেশায় একজন আনসার সদস্য। বর্তমানে তিনি জেলার অস্টগ্রাম উপজেলায় কর্মরত। এ বিষয়ে রুহুল আমিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘মেয়ে সন্তান হওয়ার কারণে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি এ কথা ঠিক না। সে (আফরোজা) আমার কথা শুনতো না। মেয়ে হওয়ার পর সে আমার সাথে আরো খারাপ আচরণ শুরু করে। ফলে তাকে তালাক দিয়েছি আমি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ