আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশকে বিশ্বের যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক..
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থা সামনে রেখে সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। যাতে আর্থিকভাবে আমাদের দেশ অনেক বেশি লাভবান হবে।

রবিবার কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগটা বাড়াতে হবে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। আমরা শুধু পশ্চিমাদের দিকে মুখ করে থাকব না। পাশাপাশি অন্যান্য যে বন্ধু দেশগুলো রয়েছে। সেখানেও যাতে আমাদের বিমান যায় সেই চেষ্টাই করব।

সরকার প্রধান বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে উন্নতি করতে চাচ্ছি। এটা একটা আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসাবে যাতে উন্নত হয়। ভুটান, নেপাল ও ভারতের কয়েকটি রাজ্য এই বিমানবন্দরটা ব্যবহার করতে পারে। সিলেট বিমানবন্দর ভারতের আসাম, মেঘালয় রাজ্যের অনেকই ব্যবহার করতে পারে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ত্রিপুরা থেকে শুরু করে ভারতের অনেক প্রদেশ এটা ব্যবহার করতে পারে। আমাদের একটা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তৈরি করা এবং সেভাবে উন্নতি করার চিন্তা আমাদের মাথায় রয়েছে। সেইভাবে এগুলো অত্যাধুনিক করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের একটি অন্যতম প্রধান অ্যাভিয়েশন হাব অর্থাৎ আকর্ষণীয় বিনিয়োগ ও পর্যটন গন্তব্য হিসেবে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য স্থির করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহনে নিরাপদ, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য এভিয়েশন সুবিধাদি প্রদানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

কক্সবাজারের উন্নয়নের সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, পৃথিবীতে স্যান্ডি বিচ কম আছে। সেখানে আমরা বিদেশিদের জন্য বিশেষ অঞ্চল করে দেব। তাঁরা যেন তাদের মতো করে উপভোগ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করব। সোনাদিয়াতে আমরা ইকো পার্ক করে দেব। মহেশখালীতে গভীর সমুদ্র বন্দরে রূপান্তর হয়েছে। এটা আরও উন্নত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ হলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের যত বিমান যাবে তাদের রিফুয়েলিং সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা হবে এটি। ভবিষ্যতে কক্সবাজারই হবে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে অল্প সময়ে যেতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের সঙ্গে আমরা রেলের সংযোগ করার জন্য একটা আন্ডার পাস করে সংযোগ করতে চাচ্ছি। আমাদের মেট্রো রেলের কাজ সম্প্রসারণ করে কমলাপুরে স্টেশন পর্যন্ত নেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি।

সরকার প্রধান বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ‘রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল বিমানবন্দরকে উন্নত করব। ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ, নতুন রাডার স্থাপন ও জেট ফুয়েল সরবরাহ করার জন্য পাইপলাইন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করব। কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠা করব সুপিরিয়র বিমান অবতরণে সক্ষম দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কক্সবাজার নয়, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, বাগেরহাটে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমরা বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭ এবং আকাশপথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন) আইন, ২০২০ সহ বেশ কিছু আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ