আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

খোলা নালা যেন মৃত্যুফাঁদ

Spread the love

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি.
চট্টগ্রাম নগরীতে গত দুই মাসে জলাবদ্ধতার কারণে নালায় পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন। সর্বশেষ গত বুধবার সকালে মুরাদপুর মোড়ে খোলা নালায় পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন সালেহ আহমেদ। তিনি চকবাজার এলাকার সবজি বিক্রেতা।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর খতিবের হাট এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে বাবাকে খুঁজছিল সালেহ আহমেদের ছেলে মো. মাহিম। তখন কান্নাভেজা কণ্ঠে সে বলছিল, ওরা কি আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে? কার কারণে আমার বাবা আজ নালায় ডুবে গেল? এটা কি অব্যবস্থাপনা নয়? এভাবে কেন রাস্তার পাশে, ফুটপাতে নালা খোলা পড়ে থাকবে? মানুষ পড়ে ডুবে মরবে?

এর আগে গত ৩০ জুন নগরীর চশমা খালে যাত্রীভর্তি সিএনজি অটোরিকশা পড়ে যায়, মারা যান এক নারী ও অটোরিকশা চালক।

জুন মাসে নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় রিকশায় সন্তানসহ খোলা নালায় পড়ে ডুবে যান এক মধ্যবয়স্ক নারী। একই ঘটনা ঘটে নগরীর দুই নম্বর গেট সংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায়ও। জুন মাসের মাঝামাঝি সময় ফুটপাত থেকে হঠাৎ নালায় পড়ে যান এক পথচারী। তবে তাঁরা কেবল আহত হন। এভাবে বৃষ্টিতে নগরী তলিয়ে গেলেই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

নগরী পানিতে তলিয়ে গেলে কোথায় ফুটপাত, কোথায় নালা আর কোথায় সড়ক তা বোঝার উপায় থাকে না। অনেক খাল এবং নালার ওপর স্ল্যাব নেই, নেই কোনো বিপদসূচক চিহ্ন, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজের কারণে প্রায় সব খালের পাড় অরক্ষিত, খালের পাশে ওয়াল বা লোহার বেষ্টনী কিছুই নেই। ফলে হঠাৎ পড়ে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ।

মুরাদপুর এলাকার ব্যবসায়ী আজমীর হোসেন বলেন, এখানে দুই নম্বর গেট থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার খালের পাড় দুই বছর ধরে বেহাল। জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ, এটা কেন জানি না? খালের পাড়ে বড় বড় লোহার পাত গেড়ে রাখা হয়েছে, লোহার রড মাথা বের করে আছে। সব সরঞ্জাম রাস্তার পাশে পড়ে আছে। কী কাজ হচ্ছে বুঝতে পারছি না? পুরো নালা খোলা, কেউ পড়লে বাঁচার মতো অবস্থা নেই। নালার ওপর স্ল্যাব না বসালে আরও মানুষ মরবে।

জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল শাহ আলী বলেন, এভাবে মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। এ অংশে নালার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় অর্ধেক কাজ করে ফেলে রেখেছি। সিডিএ কে বলেছি ভূমি অধিগ্রহণ যত দ্রুত সম্ভব করে দিতে। না হয় কাজ শুরু করতে পারছি না। যেসব খালে কাজ করছি, তার দুই পাশে লোহার বেষ্টনী দেব। রিটেইনিং ওয়ালও হবে। যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না হয়।

লে. কর্নেল শাহ আলী আরও বলেন, চশমা খালের দুর্ঘটনা হয়েছে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বহীনতার কারণে । সেখানে সড়কের ওপর সিঁড়িতে ধাক্কা খেয়ে সিএনজি খালে পড়েছে। সড়কে সিঁড়ি এল কীভাবে? তা ছাড়া চশমা খালে আমরা কাজ করছি না। এটা তাদের দায়িত্ব।

পাল্টা জবাবে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল আলম বলেন, ‘নগরীর সব নালা খালে সিডিএ জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ করছে। তারা এসব কাজ শেষ করে আমাদের বুঝিয়ে দিলে আমরা দায়িত্ব নেব। এখন সব দায় দায়িত্ব তাদের।’

নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান বলেন, দুই সংস্থার অবহেলায় নগরবাসী প্রাণ হারাবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। এসব প্রাণহানি অপরিকল্পিত কাজের কারণে হচ্ছে। নালায় অন্তত বিপদ সূচক লাল পতাকা চিহ্ন বা বেষ্টনী থাকা উচিত। যারাই কাজ করুক, নগরীতে এ দুটি সংস্থাকেই এসব কাজ করতে হবে। এভাবে দায় এড়াতে পারে না তারা। আর যাতে প্রাণহানি না হয় অবিলম্বে সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ