আজ ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ করোনা, একদিনে শনাক্ত ১০৬, উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি.
কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি বিপজ্জনক আকার ধারণ করছে। ভয়াবহ এ ভাইরাস শনাক্তের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। প্রতিদিনেই মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এ পরিস্থিতিতে জেলায় নতুন করে তিনজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে প্রকাশিত রিপোর্টে মোট ১০৬ জনের নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর বিপরীতে জেলা এদিন সুস্থ হয়েছেন মোট ৭৮ জন। ফলে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিনই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠছে।

সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাব থেকে গত ৮ ও ৯ জুলাই সংগৃহীত মোট ১৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৫৭ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

এ রিপোর্টে মোট ৪৮১ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

বাকি ৩৩১ জনের মধ্যে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে সোমবার (১২ জুলাই) ১০৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

এছাড়া শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং হোসেনপুর, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, পাকুন্দিয়া, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২২৪ জনের রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ৪১ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

ফলে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বর্তমান রোগীর সংখ্যা ২৮ জন বেড়েছে।

আগের দিন সোমবার (১২ জুলাই) জেলায় করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ১৩৫৫ জন। জেলায় বর্তমান রোগীর সংখ্যা মোট ১৩৮৩ জন।

জেলায় নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া মোট ১০৬ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৮ জন শনাক্ত হয়েছে।

বাকি ৮৮ জনের মধ্যে হোসেনপুর উপজেলায় ৪ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ১৬ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৬ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১৫ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ১৭ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ১ জন, ভৈরব উপজেলায় ১৪ জন, নিকলী উপজেলায় ৪ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ৮ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ৩ জন শনাক্ত হয়েছে।

নতুন সুস্থ হওয়া ৭৮ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সর্বোচ্চ ৫৬ জন।

এছাড়া বাকি ২২ জনের মধ্যে কুলিয়ারচর উপজেলার ৪ জন, ভৈরব উপজেলার ১৩ জন এবং বাজিতপুর উপজেলার ৫ জন রয়েছেন।

ফলে শনাক্ত এবং সুস্থতার অনুপাতে এদিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

তবে মোট শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শীর্ষে রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে বর্তমানে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭৭ জন যাদের মধ্যে ১০ জন আইসিইউতে রয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৪৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ২০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

হাসপাতালটিতে তিনজন সন্দেহজনক কোভিড-১৯ রোগী মারা গেছেন।

এই সময় পর্যন্ত জেলায় মোট ৭১২৫ জন শনাক্ত, ৫৬৩০ জন সুস্থ এবং ১১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বর্তমানে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ১৩৮৩ জন। তাদের মধ্যে ৭৭ জন হাসপাতাল ও ১৩০৬ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

বর্তমানে করোনা আক্রান্ত মোট ১৩৮৩ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৭৩৪ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ৩৯ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ৬৩ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৫৪ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১০৯ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ১৪৩ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ১২ জন, ভৈরব উপজেলায় ১৪১ জন, নিকলী উপজেলায় ১৬ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ৩৬ জন, ইটনা উপজেলায় ২৫ জন, মিঠামইন উপজেলায় ১০ জন এবং অষ্টগ্রাম উপজেলায় ১ জন রয়েছেন।

জেলায় মোট মৃত্যু ১১২ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৪১ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ৫ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ৮ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৩ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ৬ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৬ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৫ জন, ভৈরব উপজেলায় ২৪ জন, নিকলী উপজেলায় ৪ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ৮ জন, ইটনা উপজেলায় ১ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ১ জন রয়েছেন।

জেলার একমাত্র অষ্টগ্রাম উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোন মৃত্যু নেই।

এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন।

এরপর গত ১৯ জুন থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৭৫৮৫ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় ২৮০৭ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।

অন্যদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজার ৩০৭ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় কেউ দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেননি।

কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ