আজ ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতির দিকে

নিজস্ব প্রতিনিধি.
কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটেই চলেছে। জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ শুক্রবার (২ জুলাই) রাতে প্রকাশিত রিপোর্টেও সংক্রমণের উর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। ফলে সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিনই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে।

সর্বশেষ রিপোর্টে জেলায় মোট ৯৫ জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর বিপরীতে করোনাভাইরাস মুক্ত হয়ে জেলায় এদিন সুস্থ হয়েছেন মোট ৩২ জন। এছাড়া জেলায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে আরো একজন মৃত্যুবরণ করেছেন।

সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তি করিমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ৬৩ বছর বয়সী একজন পুরুষ।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাত ৩টার দিকে তিনি কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এ পরিস্থিতিতে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বর্তমান রোগীর সংখ্যা আরো ৬২ জন বেড়েছে।

আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) জেলায় বর্তমান আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ৮২২ জন। ফলে শুক্রবার (২ জুলাই) বর্তমান রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ৮৮৪ জন।

জেলায় নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া মোট ৯৫ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬৩ জন শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া বাকি ৩২ জনের মধ্যে করিমগঞ্জ উপজেলায় ৩ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৩ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ৩ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৫ জন, ভৈরব উপজেলায় ৯ জন, নিকলী উপজেলায় ১ জন, বাজিতপুর ‍উপজেলায় ৫ জন, ইটনা উপজেলায় ২ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ১ জন শনাক্ত হয়েছে।

ফলে শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে শীর্ষে থাকা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলায় বর্তমান মোট রোগী ৮৮৪ জনের মধ্যে ৬১৪ জনই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৫৭৩ জন।

এছাড়া জেলায় করোনায় মোট মৃত্যু ৯০ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

এক উপজেলা বর্তমানে করোনাশূন্য থাকায় বাকি ১১ উপজেলা মিলিয়ে বর্তমান রোগীর সংখ্যা ২৭০ জন।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে হাসপাতালটির প্রি-আইসোলেশনে ভর্তিকৃত জরুরী রোগীসহ মঙ্গলবার (২৯ জুন), বুধবার (৩০ জুন), বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ও শুক্রবার (২ জুলাই) সংগৃহীত মোট ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮৫ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার শতকরা ৪৫ ভাগ।

এ রিপোর্টে মোট ৩২৫ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হয়েছে।

বাকি ১৩৭ জনের মধ্যে ৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে। সেখানে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) এই ৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এবং কুলিয়ারচর, ভৈরব ও ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪৬ জনের রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ৬ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

নতুন সুস্থ হওয়া ৩২ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ২১ জন।

এছাড়া বাকি ১১ জনের মধ্যে তাড়াইল উপজেলার ৪ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলার ৪ জন এবং বাজিতপুর উপজেলার ৩ জন রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে বর্তমানে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯৫ জন যাদের মধ্যে ৯ জন আইসিইউতে রয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ১০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এই সময় পর্যন্ত জেলায় মোট ৬১৪৯ জন শনাক্ত, ৫১৭৫ জন সুস্থ এবং ৯০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বর্তমানে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ৮৮৪ জন। তাদের মধ্যে ৬৬ জন হাসপাতাল ও ৮১৮ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শীর্ষে রয়েছে।

জেলার একমাত্র অষ্টগ্রাম উপজেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত কোন রোগী নেই।

বর্তমানে করোনা আক্রান্ত মোট ৮৮৪ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬১৪ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ৯ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ২৪ জন, তাড়াইল উপজেলায় ২২ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ২৫ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৫১ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৩১ জন, ভৈরব উপজেলায় ৭২ জন, নিকলী উপজেলায় ৬ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ২১ জন, ইটনা উপজেলায় ৮ জন এবং মিঠামইন উপজেলায় ১ জন রয়েছেন।

এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন।

এরপর গত ১৯ জুন থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১১৭৫ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় কেউ সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেননি।

অন্যদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজার ৩০৭ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় কেউ দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেননি।

কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ