আজ ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনা

কিশোরগঞ্জে করোনার ভয়াবহ থাবা, একদিনে ৯২ জন আক্রান্ত, মৃত্যু ১

তোলপাড় ডেস্ক :
কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটেই চলেছে। জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ বুধবার (৩০ জুন) রাতে প্রকাশিত রিপোর্টেও সংক্রমণের উর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। ফলে সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিনই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে।

সর্বশেষ রিপোর্টে জেলায় মোট ৯২ জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর বিপরীতে করোনাভাইরাস মুক্ত হয়ে জেলায় এদিন সুস্থ হয়েছেন মোট ৩৭ জন। এছাড়া জেলায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে আরো একজন মৃত্যুবরণ করেছেন।
সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তি পাকুন্দিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ৭৮ বছর বয়সী একজন পুরুষ।

বুধবার (৩০ জুন) বিকাল ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এ পরিস্থিতিতে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বর্তমান রোগীর সংখ্যা আরো ৫৪ জন বেড়েছে।

আগের দিন মঙ্গলবার (২৯ জুন) জেলায় বর্তমান আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ৭০৮ জন। ফলে বুধবার (৩০ জুন) বর্তমান রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ৭৬২ জন।

জেলায় নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া মোট ৯২ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬৫ জন শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া বাকি ২৭ জনের মধ্যে হোসেনপুর উপজেলায় ১ জন, তাড়াইল উপজেলায় ৫ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ৪ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ১১ জন, ভৈরব উপজেলায় ৩ জন, নিকলী উপজেলায় ১ জন এবং বাজিতপুর ‍উপজেলায় ২ জন শনাক্ত হয়েছে।

ফলে শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে শীর্ষে থাকা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলায় বর্তমান মোট রোগী ৭৬২ জনের মধ্যে ৫৫৪ জনই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৫১৪ জন।

এছাড়া জেলায় করোনায় মোট মৃত্যু ৮৮ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

দুই উপজেলা বর্তমানে করোনাশূন্য থাকায় বাকি ১০ উপজেলা মিলিয়ে বর্তমান রোগীর সংখ্যা ২০৮ জন।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে হাসপাতালটির প্রি-আইসোলেশনে ভর্তিকৃত জরুরী রোগীসহ রোববার (২৭ জুন), সোমবার (২৮ জুন) ও মঙ্গলবার (২৯ জুন) সংগৃহীত মোট ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮২ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার শতকরা প্রায় ৪৪ ভাগ।

এ রিপোর্টে মোট ২৯১ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হয়েছে।

বাকি ১০৩ জনের মধ্যে ৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে। সেখানে মঙ্গলবার (২৯ জুন) এই ৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এবং করিমগঞ্জ, তাড়াইল, পাকুন্দিয়া ও ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪৩ জনের রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ৮ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে।

নতুন সুস্থ হওয়া ৩৭ জনের কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ২৪ জন রয়েছেন।

এছাড়া বাকি ১৩ জনের মধ্যে হোসেনপুর উপজেলার ২ জন, করিমগঞ্জ উপজেলার ৭ জন, ভৈরব উপজেলার ২ জন এবং বাজিতপুর উপজেলার ২ জন রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে বর্তমানে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯৪ জন যাদের মধ্যে ৬ জন আইসিইউতে রয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এই সময় পর্যন্ত জেলায় মোট ৫৯৫৮ জন শনাক্ত, ৫১০৮ জন সুস্থ এবং ৮৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বর্তমানে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ৭৬২ জন। তাদের মধ্যে ৬০ জন হাসপাতাল ও ৭০২ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শীর্ষে রয়েছে।

জেলার মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এ দুই হাওর উপজেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত কোন রোগী নেই।

বর্তমানে করোনা আক্রান্ত মোট ৭৬২ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫৫৪ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ৭ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ১৪ জন, তাড়াইল উপজেলায় ২০ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ২৫ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৪৬ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ২১ জন, ভৈরব উপজেলায় ৪৬ জন, নিকলী উপজেলায় ৫ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ১৮ জন এবং ইটনা উপজেলায় ৬ জন রয়েছেন।

এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন।

এরপর গত ১৯ জুন থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১১৪৬ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় ৪৪ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।

অন্যদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজার ৩০৭ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় কেউ দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেননি।

কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ