আজ ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে শিল্পী সমাজের তোপের মুখে জেলা কালচারাল অফিসার (ভিডিও সহ)

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
জেলা শিল্পকলার শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় নিয়ে জেলা শিল্পী সমাজের তোপের মুখে পড়েছেন কিশোরগঞ্জ কালচারাল অফিসার তমাল ঘোষ। আজ রোববার (২৩ মে) রাত ৮টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির নিজ অফিস কক্ষে তিনি তোপের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে সকল ব্যার্থতা ও দোষ স্বীকার করে নেন তিনি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জেলা কালচারাল অফিসার হিসেবে তমাল ঘোষ কিশোরগঞ্জ শিল্পকলায় যোগদান দেয়ার পর থেকে কোন দিনও তিনি অফিসে আসেন না। প্রয়োজনে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে বিভিন্ন সময় ফোনে যোগাযোগ করলেও তাকে পায়নি। এমনকি কিশোরগঞ্জ শিল্পী সমাজের কোন শিল্পী বা কলা কৌশলীরাও আজ পর্যন্ত তাকে চিনেন না বা দেখেননি এবং তিনিও কোন শিল্পীকে চিনেন না। সম্প্রতি প্রধান মন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল হতে জেলায় অসহায় ও কর্মহারা শিল্পীদের জন্য প্রণোদনার টাকা গোপনে তালিকা করে অসহায়দেরকে বঞ্চিত করে অশিল্পী ও বিত্তবানদেরকে পায়িয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব ক্ষোভ কিশোরগঞ্জ শিল্পী সমাজের বহুদিন থেকে। এদিকে প্রতি মাসের বেতন ভাতা তিনি ঠিকই তুলে নিচ্ছেন।
আজ রোববার (২৩ মে) বাংলাদেশ শিল্পকলার একাডেমির মহা-পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ভ্রমণ সূত্রে ও জেলার মিঠামইন আব্দুল হামিদ শিল্পকলা এবং কালচারাল সেন্টার উদ্ভোধন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ আসেন। উদ্ভোধন শেষে রাতে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকালা একাডেমিতে জেলা শিল্পী ও সাহিত্যিকদের সাথে মত বিনিময়ে মিলিত হবেন। এ প্রোগ্রাম রক্ষা করতে রোববার সকাল থেকেই জেলা কালচারাল অফিসার তমাল ঘোষ কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন। তা জানতে পেরে কিশোরগঞ্জ শিল্পী সমাজের বিভিন্ন সাংস্কৃতি সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উৎপেতে থাকে কখন কালচারাল অফিসার শিল্পকলাতে ঢুকেন। যখন রাত সারে ৭টা বাজে তখন তিনি জেলা শিল্পকলায় নিজ অফিস কক্ষে বসেন। খবর পেয়ে জেলা শিল্পী সমাজের ১৫/২০টি সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অর্ধশতাধিক সাংস্কৃতি নিতাকর্মী তাকে ঘেরাও করে। এসময় কালচারাল অফিসার জেলা শিল্পকলার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনিয়মের কর্মকান্ডের প্রশ্নের তোপের মুখে পড়েন তমাল ঘোষ। তিনি তখন সকলের প্রশ্নই এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবশেষে সবার সামনে সকল দোষ ও নিজের ব্যার্থতার দায় স্বীকার করেন। ভবিষতে আর এমন কর্মকান্ড হবেনা বলে সকলের কাছে প্রতিশ্রুতিও দেন। এক পর্যায়ে কিছুক্ষণের জন্য তিনি শিল্পকলা ছেড়ে বাহিরে চলে যান।

বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতি সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং কর্মীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, শিল্পকলার কালচারাল অফিসার কে ? কেমন তার চেহারা কেউ বলতে পারেনি এ পর্যন্ত। আজ তারা দেখে অবাক হয়েছেন সবাই। তাদের অভিযোগ, এ জেলাতে যোগদান করার পর থেকে কোন দিন অফিসে কালচারাল অফিসারের চেহারা দেখা যায়নি। জেলা শিল্পীদের সাথে তারা কোন যোগাযোগ নেই। তাই কোন প্রশিক্ষণ না পেয়ে শিল্পকলা ও জেলার বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। শিল্পকলায় সরকারের দেয়া বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও শিল্পীদের প্রাথমিক শিক্ষাসহ সবকিছু থেকে জেলার শিল্পী সমাজ নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভিডিও দেখতে নিচে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ