আজ ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দেশ -বিদেশে বিক্ষাত পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের লিচু

আবু হানিফ , পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি ও জৈষ্ঠ মাসের প্রথমে দেশ বিদেশের বিক্ষাত কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের গোলাপী রঙের লিচু বাজারে আসে। মিষ্টি ফলের এ সমারোহ আর মৌ মৌ গন্ধ জানান দেয় এটা মধুমাস। কিছুদিনের মধ্যেই পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজার গুলোতে মৌসুমী ফল ক্রয়-বিক্রয় যেন উৎসবের আমেজ হবে।

জ্যৈষ্ঠ মাস আসতে না আসতেই হাট-বাজারগুলো সয়লাব হচ্ছে মৌসুমী ফলের। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও বিখ্যাত উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে লিচু। এবার মধুমাসের ফল লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

মঙ্গলবাড়িয়ার প্রতিটি বাড়ির বসতভিটার বা আঙিনায় গাছে গাছে থোকায় থোকায় লাল টুকটুকে রং এর ক্ষুদ্রাকৃতির বিচি, পাতলা চামড়া ও বড় আকৃতির লিচু সবার নজর কাড়ছে।
মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের সুস্বাধু ও উন্নত জাতের লিচুর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিটি লিচুই গোলাপী রঙের। শাঁস মোটা ও রসে ভরপুর এ লিচুর মূল জনপ্রিয়তা তার ঘ্রাণে।

মঙ্গলবাড়িয়ার সুস্বাদু লিচুর উৎপত্তি সম্পর্কে প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, ওই গ্রামের আ. হাসিম মুন্সী নামের এক স্কুল শিক্ষক বহু বছর আগে ভারতীয় একটি গোলাপী জাতের লিচুর চারা এনে বাড়ির সামনে রোপন করেছিলেন। ৫ থেকে ৭ বছর পর চারা গাছে লিচুর ফলন হয়। তার গাছের লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় উক্ত গ্রামের কৃষক বশির উদ্দিন এই গাছের কলম চারা তৈরি করে লিচুর চাষ শুরু করেন। পর্যক্রমে সম্প্রসারিত হতে থাকে এই লিচুর চাষ।

বর্তমানে মঙ্গলবাড়িয়া, কুমারপুর, হোসেন্দী, নারান্দী, তারাকান্দি, জাঙ্গালীয়া, সুখিয়া, ও চণ্ডিপাশাসহ উপজেলার সর্বত্রই অধিকাংশ বাড়িতে লিচুর বাগান রয়েছে। তার মধ্যে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামেই ৭-৮শ’ লিচুর বাগান রয়েছে। প্রতি বছর গাছে মুকুল আসার আগেই বেপারীরা অনেক লিচু গাছ আগাম কিনে নেয়।

পাইকাররা এখান থেকে লিচু কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। যে লিচু আগে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা শ’ দরে বিক্রি হত সেই লিচু এখন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ লিচু কেনার জন্য পাইকারদের পাশাপাশি প্রতিদিন এলাকায় প্রাইভেটকারেও চলে আসছেন অভিজাত গ্রাহকরা।
লিচু বাগান মালিকরা জানান, রোজা ও করোনার কারণে কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও এ বছর বৈশাখের প্রথমে কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টি না হওয়ায় ভাম্পার ফলন হয়েছে, আশাকরি এবছর লাভবান হব।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল হাসান আলামিন জানান, এবছর বৈশাখের প্রথমে ঝড়বৃষ্টি না হওয়ায় মুকুলের ক্ষতি হয়নি, এতে লিচুর ভাম্পার ফলন হয়েছে। আগাম বৃষ্টি না হওয়ায় লিচুর আকার একটু ছোট হলেও এবছর অধিক মিষ্টি, সুস্বাদু ও সুন্দর হয়েছে।

এছাড়াও আমেরিকা, জার্মান, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদিআরব, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও লন্ডনে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে যাচ্ছে মঙ্গলবাড়িয়ার এ সুস্বাদু লিচু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ