আজ ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে ধান কাটার শ্রমিক সংকটে হাওরের কৃষকরা

বিশেষ প্রতিবেদক :
কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা। বর্তমানে কিছু কিছু অংশে ধান কাটা শুরু হলেও দুই এক দিনের মধ্যে পুরোদমে কাটা শুরু হবে হাওরবাসীর সারা বছরের খোরাক একমাত্র বোরো ধান। এই ধান কাটার মাঝেই করোনা প্রাদুর্ভাবে ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউন। এতে প্রতিবছরের মতো বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিকরা কিশোরগঞ্জে আসা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন হাওরের বোরো চাষীরা। জমির পাকা ধান নিয়ে এখন রাতের ঘুম হারাম হচ্ছে তাদের।

হাওরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও গরম বাতাসে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক। এছাড়া জেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের ধান পাকায় ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাব ও লকডাউনের কারণে ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকটের চিন্তায় ভুগছেন জেলার বোরো চাষিরা। কারন শ্রমিকের অভাবে সময় মতো ধান কাটতে না পারলে অকালবন্যা দেখা দিলে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জে এবার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। গত বছর ধানের দাম বেশী পাওয়ায় কৃষকেরা এবছর প্রায় ৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। অন্য বছরের তুলনায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতীয় ধান বেশি হওয়ায় উৎপাদন অনেক বেড়ে যাওয়ার আশা রয়েছে। এবার চালের দিক দিয়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ১১ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন চাল। যা অন্য বছরের চেয়ে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিকটন বেশি। পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে নিরাপদে ধান গোলায় তুলতে পারবেন।

জেলার নিকলী উপজেলা সদরের কৃষক রিপন মিয়া দৈনিক তোলপাড়কে বলেন, আমাদেরতো মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। গরম বাতাসে ধানের ক্ষতি করে গেল। এখন যা বাকি আছে তা লকডাউনে কেড়ে নিবে। কারণ করোনা ও লকডাউনের কারণে অন্য জেলাগুলো থেকে শ্রমিক আসতে চাচ্ছে না। এখন ধান ঘরে তোলা নিয়ে বড়ই চিন্তায় পড়েছি।

অষ্টগ্রাম উপজেলার সবুজ মিয়া দৈনিক তোলপাড়কে বলেন, লকডাউনে সরকার যদি ধান কাটার শ্রমিকদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে তাহলে শ্রমিক সংকটে হাওরের ধান হাওরেই পরে রবে।

এই বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ছাইফুল আলম দৈনিক তোলপাড়কে বলেন, শ্রমিক সংকট নিরসনে আমরা জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। কৃষকদের ভর্তুকি দিয়েও ‘কম্বাইন হারভেস্টর’ বিতরণ করা হচ্ছে। কম্বাইন হারভেস্টর দিয়ে কম সময়ে বেশি ধান কাটা যাবে। আশা করছি এবার নির্বিঘ্নে ধান ঘরে তুলতে পারবেন হাওরের কৃষকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ