আজ ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

থেমে নেই বাসের রেষারেষি, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:
৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা। রাজধানীর সাইনবোর্ড-সাভারের নবীনগর রুটে চলাচলকারী লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাস মানিকনগর বাসস্ট্যান্ডে থামে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লাব্বাইক পরিবহনের আরেকটি বাস আসে। এটাকে দেখে আগের বাসটি দ্রুতগতিতে টান দেয়। পরের বাসটিও দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। টিটিপাড়া সিগন্যালে আগের বাসটি অনেকটা বাঁকা করে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে যায়, যাতে পেছনের বাসটি পাশ কাটিয়ে চলে যেতে না পারে। সিগন্যাল ছাড়তেই দুটি গাড়ি পাশাপাশি বেপরোয়া গতিতে যেতে থাকে। বাসে ঘষাও লাগে কয়েকবার।

বাসাবোর বৌদ্ধমন্দির স্টপেজে সামনের গাড়িটির মাথা বাঁকা করে রেখে রাস্তা প্রায় আটকে (যেন পেছনের গাড়িটি সামনে উঠতে না পারে) রেখে যাত্রী তুলতে থাকে। যেটুকু যাওয়ার জন্য ফাঁকা রাস্তা ছিল পেছনের গাড়িটি প্রচণ্ড গতিতে সেই স্থান দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয়। প্রচণ্ড শব্দে থেমে থাকা গাড়ির ডান পাশের লুকিং গ্লাস ভেঙে চলে যায় পেছনের গাড়িটি। থেমে থাকা গাড়িটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খায়। গাড়ির ভেতরের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

কোনো গাড়ি রেষারেষি করে বেপরোয়া গতিতে চালালে আমরা দুটি গাড়িকেই থামাই। এরপর ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৮৭ ধারায় মামলা দেই। এ ধারায় আড়াই হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে

শুধু এই একটি ঘটনা নয়। রাজধানীর সড়কে বাসের এমন বিপজ্জনক ও ভীতিকর প্রতিযোগিতা দেখা যায় হরহামেশা। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। একই রুটের বাসের মধ্যে এমন রেষারেষিতে প্রায়ই জীবন যাচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের। কেউ কেউ হাত-পা হারিয়ে হচ্ছেন পঙ্গু। কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিষয়টি আলোচনায় এলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, এখনো চলছে এমন রেষারেষি।

যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, একই রুটের কিংবা একই কোম্পানির দুটি বাস কাছাকাছি এলে যাত্রী তুলতে এই রেষারেষি শুরু হয়। এক বাস আরেক বাসকে পেছনে ফেলে আগে গিয়ে যাত্রী তুললে দুটি বাসই বেপরোয়া গতিতে এগিয়ে যায়। এতে অনেক সময় দুই বাসের মাঝখানে পড়ে পথচারী বা মোটরসাইকেল আরোহীদের হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অনেক সময় দুই বাসের মাঝে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা করা হবে। কিন্তু এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

সংশ্লিষ্টরা জানান, মালিকদের দৈনিক জমা তুলতে বাসচালকরা এমন ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা ব্যবস্থা চালু এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান না নিলে এমন অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করেন যাত্রী কল্যাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শ্রাবণ ট্রান্সপোর্টের (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪১৯১২) চালক মো. জীবন বলেন, অনেক সময় যাত্রী কম থাকে। মালিকদের দৈনিক জমা তোলার চাপ থাকে। মালিককে প্রতিদিন এক হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়, নানা ধরনের চান্দা (চাঁদা) দিতে হয়। এইডা দিয়া আমাগো সংসারও চলে। তাই যাত্রী ধরতে ড্রাইভাররা পাড়াপাড়ি (রেষারেষি) করে। আয়-ইনকাম ভালো না, বাধ্য হয়ে এগুলো করতে হয়।

আরেক চালক মো. মনির বলেন, গাড়ি বেশি ও যাত্রী কম থাকলে পাড়াপাড়ি হয়। সব বাসই এগুলো (প্রতিযোগিতা) করে। গাড়িগুলোর বডিতেই সেই চিহ্ন আছে, চাইয়া দেখেন। পুলিশ দেখলে জরিমানা করে। গাড়ির ক্ষতি তো হয়ই।

গুলশানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন আব্দুল গাফফার। তিনি থাকেন সায়েদাবাদ এলাকায়। গাফফার বলেন, রাইদা পরিবহনে আমি চালাচল করি। ভালোই চলে, কিন্তু এ পরিবহনের একটি গাড়ি আরেকটিকে দেখলেই শুরু হয় প্রতিযোগিতা। তখন কাকে পিষে গেল, কোথায় ঠোকা লাগলো, সেই পরোয়া চালকরা করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ