আজ ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

খাগড়াছড়িতে বেড়েছে আগাম জাতের আনারস চাষ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
এক সময় পাহাড়ের যে সকল টিলা ভূমিতে জুম চাষে আগ্রহী ছিল সাধারণ জুমিয়ারা। সেই টিলাতে এখন চাষ হচ্ছে আগাম জাতের রসালো ফল আনারস। ফল চাষে অধিক লাভের সম্ভাবনার মুখ দেখছেন চাষিরা। টিলা ভূমিতে চাষ করা আনারস রসালো ও সুমিষ্ট হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে সমতলের বিভিন্ন হাট-বাজারে।

মৌসুমের আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস। এতে বাড়তি লাভের মুখ দেখছেন পাহাড়ি কৃষক পরিবারগুলো। খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে বাহির থেকে আসা ব্যবসায়ীরা আনারস কিনে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। এতে করে লাভবান হচ্ছে কৃষক এবং ব্যবসায়ী দুজনেই।

জানা যায়, পাহাড়ি জেলাগুলোতে আনারসের মৌসুম ছাড়াই বিগত কয়েক বছর ধরে আগাম ফলন আসায় আনারস চাষ হচ্ছে ব্যাপক হারে। এতে মৌসুমে উৎপাদিত আনারসের থেকে আগাম আনারসে বাড়তি লাভ করতে পারেন চাষিরা।

মহালছড়ির মধ্য আদাম গ্রামের চাষি সুলক্ষণ চাকমা জানান, আগাম ১৬ হাজার আনারসের চারা লাগিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজারের বেশি ফল পেয়েছে। এই আনারসগুলো রসালো এবং সুস্বাদু হওয়ায় বাগান থেকেই ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

নোয়াখালী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম জানান, আমি মহালছড়িতে এসে মৌসুমি ফল নিয়ে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। বাগান থেকে কিনে নেওয়ার কারণে একটু কম দামে কিনে নিতে পারি। মৌসুমে প্রতি পিছ আনারস ৪-৫ টাকায় কিনলেও এখন কিনতে হচ্ছে ১৪-২০ টাকায়। এতে করে লেভার খরচ এবং গাড়িভাড়া দিয়ে স্বপ্ল লাভ হলেও সমতলে এর চাহিদা রয়েছে বেশ।

এদিকে-নানিয়ারচর বিভিন্ন এলাকা থেকে আনারস চাষিরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে আনারস নিয়ে আসছেন মহালছড়ি ভাসমান পাইকারি বাজারে। সেখান থেকে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পাইকাররা পাইকারি দরে আনারস কিনছেন।

মহালছড়ি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয়ভাবে খুচরা বাজারে প্রতি জোড়া মাঝারি আকারের আনারস বিক্রয় হচ্ছে ৪০ টাকা দরে। বড় আকারের আনারস বিক্রয় হচ্ছে ৬০ টাকা জোড়া।

মহালছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার জানান, আগাম আনারস চাষ হওয়ায় কৃষকরা ভালো লাভবান হচ্ছেন। পাইকারদের কাছে তারা এখন ১৪-২০ টাকা দরে আনারস বিক্রয় করছেন। পাইকাররা বাহিরে নিয়ে সেই আনারস ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রয় করছেন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। এখানকার আনারস এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। এতে চাষিরা আনারস চাষের দিকে ঝুঁকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ