আজ ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতাল ভাংচুর

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় রাশেদা বেগম নামে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের সম্ভুপুর এলাকার সাজেদা-আলাল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর পর তার স্বজনরা হাসপাতালটি ব্যাপক ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

রাশেদা বেগম ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল বাশারের স্ত্রী।

স্বজনদের অভিযোগ, রাশেদা বেগমের সিজার করার সময় এনেস্থিসিয়া ভুল করার কারণে রাশেদা বেগম মারা যায়। ঘটনার পর পর হাসপাতালের ম্যানেজার ডাক্তার, নার্সসহ কর্মচারীরা পালিয়ে গেছে।

রাশেদা বেগমের স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাশার অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী সুস্থ অবস্থায় রোববার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ আগে আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের ডাক্তার নাহিদা নাজনীনের কাছে আসলে তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাফ করে জানান রোগী ভাল আছে। তাকে রোববার হাসপাতালে সিজার করতে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, সোমবার সকালে আমার স্ত্রী সুস্থ অবস্থায় হেঁটে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে। এ সময় কিছু ওষুধ আনতে বলেন ডাক্তার। ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে দেয়ার পর ডা. নাহিদা নাজনীন সকাল সাড়ে ১০ টায় অপারেশন শুরু করে। ডা. আবদুল্লাহ-আল মামুন অপারেশনের সময় এনেস্থিসিয়া দেয়।

আবুল বাশার বলেন, ২০ মিনিট পর ডাক্তার আমাকে জানান- সিজার করার পর ভূমিষ্ঠ শিশু ভাল আছে, তবে মাকে ঢাকায় পাঠাতে হবে। তার অবস্থা ভাল নয়। একথা শোনার পর আমি দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে দেখি আমার স্ত্রী জীবিত নেই। পরে আমি জানতে পারি অপারেশনের সময় এনেস্থিসিয়া ভুল করার কারণে রাশেদা মারা গেছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ডাক্তার নাহিদা নাজনীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার পর পর হাসপাতালের ম্যানেজার, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে হাসপাতালের মালিক ডা. নজরুল ইসলাম মোবাইলে যুগান্তরকে বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে কয়েকদিন যাবত বাসায় বিশ্রামে আছি।

তিনি বলেন, ডা. নাহিদা নাজনীন আমাকে ফোনে জানিয়েছে গর্ভবতী মহিলা রাশেদার সিজার সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অপারেশনের পর সম্ভবত কার্ডিয়াক এরেস্টে মহিলার শরীরে খিচুনি উঠে ৫ মিনিটের মধ্য সে মারা গেছে। এ সময় ওষুধ দেয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় কোনো ডাক্তার ইচ্ছে করে রোগীকে মারেন না। এ রোগী মারা যাওয়া দুঃখজনক বলে তিনি জানান।

তিনি দাবি করেন, রোগীর স্বজনরা ঘটনার পর হাসপাতাল ভাংচুর করে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ