আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শ্রমিক নেতাদের দৌরাত্ম্যে কিশোরগঞ্জে শতাধিক বাড়ির কাজ বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জ শহরে নির্মাণাধীন শতাধিক বাসাবাড়ির কাজ মাঝপথে বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিক নেতাদের একটি অংশ। গত এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ থাকায় বাসাবাড়ির মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিক নেতাদের বাড়তি খরচের ‘আবদার’ না রাখায় এ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নেতারা বিভিন্ন সাইটে গিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নির্মাণাধীন বাসাবাড়ির বেশ কয়েকজন মালিক। এ নিয়ে বাসাবাড়ি নির্মাণের দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কিছু নেতার বিরোধ প্রকাশ্য রূপ লাভ করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় ফিউচার কনসালটিং নামে একটি প্রকৌশল সংস্থার তত্ত্বাবধানে শহরে শতাধিক ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে বেশকিছু বহুতল ভবনও রয়েছে। সংস্থাটি জানায়, বাড়ির কাজ শুরুর সময় তাদের (প্রকৌশল সংস্থার) মধ্যস্থতায় মালিক এবং সাব-ঠিকাদারদের (শ্রমিক নেতা) একটি চুক্তি হয়।

এই চুক্তিতে সরকার নির্ধারিত রেটে নির্মাণ খরচ (মজুরি) নির্ধারণ করে দেয়া হয়। তাছাড়া কাজের গুণগত মানও সংস্থাটি দেখভাল করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। ফিউচার কনসালটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আনোয়ারুল হক আকন্দ বলেন, শ্রমিক নেতারা অতিরিক্ত কিছু অযৌক্তিক ও ভুয়া খরচ মালিকপক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের ওপর চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু এসব খরচ মালিকপক্ষের ওপর চাপালে নির্মাণ খরচ অনেক বেড়ে যাবে। তাই তারা এই অনৈতিক কাজটি করতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় জেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা প্রকৌশল সংস্থার অধীনে চলমান প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের প্রত্যাহার করে নিয়ে যায়। আর কোনো শ্রমিক যদি নির্দেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয় তারা।
এ অবস্থায় ফিউচার কনসালটিংয়ের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়। সেখানে ২০-২৫ জন মালিক ও সাধারণ শ্রমিকও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলমান কাজে অযৌক্তিকভাবে নির্মাণ খরচের বিল প্রত্যাখান করায় কিছু ঠিকাদার ও নির্মাণ শ্রমিক কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া ফিউচার কনসালটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আনোয়ারুল হক আকন্দকে হুমকি ও তার ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে অপপ্রচার করছেন। সদর উপজেলার গালিমগাজি গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক মো. মিলন ও যশোদল গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক মো. জুয়েল বলেন, কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে কাজ নেই, এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকার অবস্থা হয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য না হয়ে কোথাও কাজ করা যায় না। তাদের কথা আদেশ নির্দেশ মেনেই কাজ করতে হয়। এ সমিতির অধীনে শহরে অন্তত ৪ হাজার শ্রমিক রয়েছে। কেউ এর বাইরে গেলে কোনো কাজ পাবে না। এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে জেলা বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মোতালেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে সাধারণ সম্পাদক কাজু মিয়াকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ