আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তামিমের কণ্ঠে ম্যাচে ফেরার আশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের চারশর বেশি রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বিবর্ণ মুমিনুলরা। দলীয় রান তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছলেও গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেট হারিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। যে উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা নৈপুণ্য দেখিয়েছে, সেখানে হতাশায় ডুবেছে টাইগাররা। আজ নতুন দিন। নতুন শুরুর আশা। তামিম ইকবাল মনে করেন, আবার ম্যাচে ফিরবে বাংলাদেশ। মুশফিক-মিঠুনের জুটিতেই বুঝা যাবে ম্যাচের ভবিষ্যৎ। দ্বিতীয় দিন শেষে ক্যারিবিয়ানদের এগিয়ে রেখেছেন তিনি। দিনের খেলা শেষে আরও নানা প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের কাপ্তান। এরই কিছু অংশ তুলে দেওয়া হলো-

ব্যাটিংয়ে আরও ভালো করার আশা ছিল নিশ্চয়?

তামিম : অবশ্যই! প্রথমত উইকেট অসম্ভব ভালো ছিল। আমরা যখন ব্যাটিংয়ে নামি তখনো অনেক ভালো ছিল। তেমন কিছু হচ্ছিল না উইকেটে। আমার কাছে মনে হয়, যে চারটা উইকেট পড়েছে, কোনোটা যে খুব ভালো বলে বা উইকেটের কারণে পড়েছে; তা নয়। আপনি যদি দেখেন, চারটাই ব্যাটসম্যানদের ভুল ছিল। আজকে (গতকাল) যদি আমাদের ২টা উইকেট কম পড়ত এবং এ রানটা থাকত, তা হলে আমাদের অবস্থান আরও ভালো হতো। যেহেতু ৪টা উইকেট পড়ে গেছে, তাই বলতেই হবে- ওরা টপে; কিন্তু আমরা যদি কালকে (আজ) বড় পার্টনারশিপ করতে পারি, ১০০-১৫০ রানের জুটি গড়তে পারি, তা হলে আবার ম্যাচে ফিরতে পারব।

মুশফিক-মিঠুনের কাছ থেকে কী আশা করছেন?

তামিম : উইকেট এখন পর্যন্ত এমন কোনো আচরণ করেনি, যেটি নিয়ে চিন্তার কিছু আছে। আমাদের গুরুত্ব থাকবে কালকে প্রথম সেশনটা। আমরা যেন উইকেট না হারাই। কারণ অলরেডি আমাদের ৪টা উইকেট পড়ে গেছে। খুব বেশি ব্যাটিং বাকি নেই। এ পার্টনারশিপের ওপরেই অনেক কিছু ডিপেন্ড করবে যে, কেমন হবে ম্যাচটা। তাই এটাই আশা করতে পারি যে, তাদের একটা ভালো পার্টনারশিপ হবে।

লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের প্রতি আস্থা আছে?

তামিম : বিশ্বাস তো আপনার করতেই হবে। এমন না যে, ওরা আগে কখনো করেনি। লিটনের সামর্থ্য আছে। মিরাজ প্রথম ম্যাচে দারুণ ছিল। যেটি বললাম আমি- আমাদের নিজেদেরই দোষ এই অবস্থার জন্য। ভুলগুলো না করলে আমরা আরও ভালো অবস্থায় থাকতাম।

আগ্রাসী ব্যাটিং করার পেছনে আগাম পরিকল্পনা কী ছিল?

তামিম : আমার কাছে মনে হয়, আমি একটু অ্যাগ্রেসিভ খেলেছি। আমি ছাড়া কেউ এমন খেলেছে বলে মনে হয় না আমার। অ্যাগ্রেসিভ না, আমার কাছে মনে হয়েছে আমার ইন্টেন্ট অনেক ভালো ছিল। আউট হওয়ার বলটা ছাড়া ওরকম কোনো ভুল শটও খেলিনি। একটা হয়তো স্লিপের পাশ দিয়ে গিয়েছিল। তবে মারার বল হলে আমি চেষ্টা করেছি মেরে রান তুলে নেওয়ার। আমার কাছে মনে হয়েছে, খুব বেশি ডিফেন্সিভ মাইন্ডসেটে যাওয়া উচিত নয়। আপনি যদি রাশ শট খেলে আউট না হন, বলের মেরিট অনুযায়ী খেলেন, তা হলে এটা ঠিক আছে। দুর্ভাগ্যবশত আমি যেটিতে আউট হলাম, সেটি ঠিক ছিল না।

উইন্ডিজকে তিনশর মধ্যে রাখতে না পারার কারণ কি ভুল?

তামিম : অবশ্যই আমরা তো চেয়েছিলাম, আজকে যত তাড়াতাড়ি উইকেট নিতে পারি। নিয়ে তাদের যদি তিনশর নিচে রাখা যায়, তা হলে এটা আমাদের জন্য খুব ভালো হবে। কিন্তু সঙ্গে এটাও বুঝতে হবে, উইকেট খুব ভালো ছিল; আমাদের স্পিনারদের একদমই সাহায্য করেনি। এ ছাড়া তারা বেশ ভালো ব্যাটিংও করেছে। সবকিছু আমাদের ভুলের কারণে এমন নয়, কিছু ক্রেডিট তাদেরও দিতে হবে। তারা অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। জোসেফ নেমে খুব ভালো খেলেছে। সে ৭০-এর বেশি রান করেছে, উইকেটরক্ষক ভালো খেলেছে। আমরা অবশ্যই কিছু না কিছু ভুল করেছি, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও ক্রেডিট দিতে হবে।

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টেস্টে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আশা করেছিলেন সেটার চাইতে অপ্রত্যাশিত দল সামনে পড়ল কিনা?

তামিম : দেখেন চট্টগ্রাম টেস্টে চারটি দিন বলেন, চারটি দিন আমাদের ফরে ছিল; কিন্তু শেষ দিন তারা অপ্রত্যাশিত ভালো ক্রিকেট খেলেছে। এই টেস্টে তারা এখন পর্যন্ত আমাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে, কোনো সন্দেহ নেই।

বাস্তবতার বিবেচনায় এই টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কী হতে পারে?

তামিম : বিশ্বাস তো করতেই হবে। যেটি বললাম- যদি চারটি উইকেট না পড়ত তা হলে আমরা বেটার সিচুয়েশনে থাকতাম। ডিফিকাল্ট; কিন্তু আমি বলবো না যে, আমি এটা বিশ্বাস করি না। আমরা নিজেদের প্রতি বিশ্বাস রাখছি যে, এখান থেকে ভালো কোনো বড় পারফরম্যান্স হবে এবং আমরা চেষ্টা করব পরিস্থিতি বদলের।

মুমিনুলের অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে কিছু বলেন …

তামিম : সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সে এই কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। টেস্ট অধিনায়কত্ব সহজ কাজ নয়। ওয়ানডে বলেন, টি-টোয়েন্টি বলেন- এটা একটা দিনের খেলা। টেস্ট অধিনায়কত্ব অনেক অনেক কঠিন; কিন্তু তার যে চিন্তাধারা, তার যে প্ল্যানিং, তার যে ফোকাস, তার যে ফিউচার প্ল্যান … টেস্ট ক্রিকেটকে যেভাবে দেখে। আমার কাছে মনে হয় না এখানে এর চেয়ে বেটার কেউ আছে, যে নেতৃত্ব দেবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- মুমিনুল সঠিক ব্যক্তি। কয়টি বিষয় আপনাদের সবার মাথায় রাখতে হবে যে, সে খুবই তরুণ। সে ভুল করতেই পারে, এটা যে কোনো অধিনায়কই করে। আর সে এটা থেকে শিখবে। আমি নিশ্চিত, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে স্ট্রেন্থ টু স্ট্রেন্থ হবে- অনেক ভালো কিছু দেখব সে করছে। কারও যদি ফোকাসটা থাকে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে, আমাদের টিমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় এমন কাউকে যদি বলতে হয়, মুমিনুল সেখানে ওপরের দিকেই থাকবে নিশ্চিতভাবে। সুতরাং আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সে সঠিক ব্যক্তি।

মুমিনুলকে কীভাবে সাপোর্ট দিচ্ছেন?

তামিম : আমরাতো অবশ্যই সাপোর্ট দিতে চাই, যখনই আমাদের কিছু বলার থাকে আমরা বলি। সে যেটি ভালো মনে করে সেটি নেয়, যেটি মনে করে এখন দরকার নেই সেটি নেয় না। যেটি একজন অধিনায়কের জন্য ভালো দিক। মাঝে মাঝে এমন হয় যে, আমাদের মনে হয় সে যেটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, ওটা আমাদের অনুসরণ করা উচিৎ, আমরা সেটি অনুসরণ করি। এটা না যে, সিনিয়র হওয়ার কারণে সবসময় তাকে বলতে থাকব। সময় সময় যখন আমরা অনুভব করি, তখনি আমরা পরামর্শ দিই এবং সে শোনে, এটা না যে, শোনে না। সব কথার শেষ কথা- হি ইজ দ্য রাইট ম্যান অফ দ্য জব।

* বাড়তি এক পেসারের অভাব অনুভব হচ্ছে কিনা?

তামিম : দেখেন যে প্ল্যানটা ছিল সেটি তো যে উইকেট দেখছি, সেটির ছিল না। যখন ঘরের মাঠে কোনো দল তিন স্পিনার নেয় তখন এটি রকেট সায়েন্স না, আপনারা বুঝতেই পারেন আমরা আরও বেশি স্পিন ধরবে এমন উইকেট প্রত্যাশা করি; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি স্পিন হয়নি, যে কারণেই হোক না কেন। সো আমরা একটি প্ল্যান সেট করে এগিয়েছিলাম। এখন উইকেট স্পিনারদের সাহায্য না করায় এটি নিয়ে অনেক কথা হতে পারে। বাট গোয়িং ফরোয়ার্ড। আপনি জানেন যে, বাংলাদেশ তথা আমরা জিতেছিলাম দুটি বড় দলের সঙ্গে, ইভেন এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেই শেষ যখন জিতেছি। তখনো সেম কম্বিনেশনেই সাকসেস হয়েছি; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে উইকেট স্পিনারদের সাহায্য করেনি (এই ম্যাচে), দেখা যাক কী হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ