আজ ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জমেছে ফুলের ব্যবসা, ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ষড়ঋতুর দেশে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের ঘণ্টা বাজছে। শীতের বিদায়ে গাছে গাছে নতুন পাতা আর ফুলের ছড়াছড়ি। প্রকৃতি যেন রঙিন সাজে সেজেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

এ উপলক্ষে প্রকৃতির মতোই রঙ লেগেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। কদর বেড়েছে ফুলের। পবিত্রতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের প্রতিক এই ফুল। বাংলায় মাত্র দুই অক্ষরের এ শব্দ উচ্চারণ হলেই স্নিগ্ধতায় ভরে উঠে মন। আর দিবস কেন্দ্রিক বাণিজ্যিক হয়ে উঠে ফুলের বাজার।

শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগে ফুলের মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি ও খুচরার পাশাপাশি ফুল প্রক্রিয়াকরণ (ঝুড়ি, তোড়া, কাগজর কার্টন, বাঁশের খাচা) ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নগরির ফুলের দোকানে কয়েক জাতের গোলাপ, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, রজনীগন্ধা, জারবেরা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, গ্লাডিওলাস, অর্কিড, কসমস, টিউলিপ, ঝুমকা লতা, গাজানিয়া, প্লামেরিয়া বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি-বেসরকারি তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশের ২৪টি জেলায় ৩ হাজার ৫২০ হেক্টরের বেশি জমিতে ফুলের উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ, ২য় ঢাকা বিভাগ, ৩য় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সর্বোচ্চ উৎপাদন ফুল হচ্ছে গ্লাডিওলাস, পর্যায়ক্রমে- গোলাপ, রজনীগন্ধা, ম্যারিগোল্ড অন্যতম। এ খাতে জড়িয়ে আছে অন্তত দেড় লাখ কৃষক ও কমপক্ষে ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান। দেশে উৎপাদিত ফুলের বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে পয়লা ফালগুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবেস এবং ২১ ফেব্রুয়ারি পাইকারি ও খুচরা বাজারে ২০০ কোটি টাকার বেশি ফুল বিক্রি হয়ে থাকে।

ঢাকা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল প্রসাদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ভ্যালেনটাইনস ডে উপলক্ষে শনিবার পাইকারি বাজারে ফুলের দাম বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা বাড়তি। তবে গত বছরের তুলনায় কম।

তিনি জানান, ঢাকার পাইকারি বাজারে প্রতি বাণ্ডিল সাদা, গোলাপি, হলুদ গোলাপ (১০০ পিস) মানভেদে ১০০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, বাসন্তি, হলুদ ও মেরি গাঁদা প্রতি ঝোপ্পা (২০ পিস মালা) মানভেদে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা প্রতি বাণ্ডিল (১০০ পিস) ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কেলেনডোলা প্রতি ১০০ পিস বাণ্ডিল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা; গোলাপি, হলুদ, সাদা, নীল রঙের গ্লাডিওলাস প্রতি ১২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, জারবেরা প্রতি ১০০ পিস ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা, জিপসি প্রতি আটি ৩০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না গোলাপ (বাংলাদেশে উৎপাদিত) প্রতি ১০০ পিস ১২০০ থেকে ১৫ বা ১৬০০ টাকা এবং রজনীগন্ধ্যা প্রতি ১০০ পিস ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি পিস গোলাপ মানভেদে ১০ থেকে ৪০ টাকা, মানভেদে গাঁদা প্রতি মালা ৪০ থেকে ৮০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ও কেলেনডোলা প্রতি পিস ৫ থেকে ৭ টাকা, গ্লাডিওলাস প্রতি পিস ২০ থেকে ৫০ টাকা, জারবেরা প্রতি পিস ১৫ থেকে ৩০ টাকা, জিপসি পরিমাণ অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জুঁই-বেলী মালা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ী নাঈম ফ্লাওয়ার ওয়ার্ডের মালিক মো. নাঈমুর রহমান জানান, ফুল কাঁচামাল। পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারের মিল পাওয়া যায় না। অনেক ক্রেতা মনে করেন খুচরা বাজারে দাম বেশি। দিবসকেন্দ্রীক ফুলের দাম কিছুটা বেড়েছ।

শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ রাইজিংবিডিকে বলেন, করোনা মহামারির কারণে দেশের সব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতি হয়েছে, ফুল ব্যবসায়ী ও কৃষকের। আম্পান ও করোনার ক্ষতি হলেও সরকারি কোনো সহায়তা এ খাত পায়নি।

এদিকে, সরকারের বাজার অবকাঠামো, সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধার মাধ্যমে ফুল বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প রয়েছেন। এ প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে দেওয়ান আসরাফুল হোসেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের প্লাস্টিক ফুল আমদানির জন্য অনুমতি দিয়ে রাখে, সে ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত ফুল চাষী ও ব্যবসায়ীরা। আমাদের পক্ষ থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় যেসব বিভাগ রয়েছে সেসব ফোরামে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। চাষি ও ব্যবসায়ীরা এসব বিষয়ে বলে যাচ্ছে। এর সমাধানের জন্য আমরা একটি প্রতিবেদনও দিয়েছি। স্থানীয় বাজার সুরক্ষায় প্লাস্টিক ফুলের আমদানি বন্ধ করা উচিৎ।

প্রকল্পের বিষয়ে তিনি জানান, ঢাকার গাবতলিতে একটি ৩ তলা বিশিষ্ট পাইকারি বাজার তৈরি করা হবে। যাতে ফুল বিক্রির আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি থাকবে। এটি পাইকারি ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হবে। এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে ফুল উৎপাদন এলাকায় পাঁচটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তবে পাইকারি বাজারের কাজ এখনো শুরু হয়নি, আগামী জুলাই থেকে নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ