আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাবার অপহরণ মামলার আসামী ছেলে গ্রেফতার

চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে নিজের আপন ছোট ভাইয়ের কিডনি বিক্রির চেষ্টায় পুলিশের জালে ফেঁসে গেলেন বড় ভাই। যে জন্য ওই বড় ভাই ফাহাদ বিন ইহসান তারেক নামের বড় ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে ওই ছোট ভাই রায়হান এহসান রিহান (৫) কে অপহরণ করেছিলো ওই বড় ভাই। এমন অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন পিতা মো. আবু তাহের। রিহানের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, রিহানকে অপহরণের পর বাসায় একটি চিঠি লিখে যান বড় ভাই তারেক। চিঠিতে তারেক উল্লেখ করেন, আমি শুধু এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আমি যেদিন কিডনি বিক্রি করেছিলাম, ঠিক সেদিন থেকে আপনারা আমার অবহেলা করা শুরু করেছেন। অথচ আপনাদের অত্যাচারে আমি বাধ্য হয়েছি নিজের অঙ্গ বিক্রি করতে। আপনারা আমার জীবনের সব শেষ করে দিয়েছেন। আমার স্ত্রী অন্যের বিছানায় সঙ্গী শুধু আপনাদের জন্য।

আমার সন্তানের মুখ পর্যন্ত আমি আজও দেখি নাই। আমার জীবন নষ্ট করে আপনারা শান্তিতে থাকবেন ভাবলেন কীভাবে? আমি এতোদিন অপেক্ষা করেছি। আপনাদের হাতে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আপনারা আমার কোনো ব্যবস্থা করে দেন নাই। আপনার সন্তান যেখানে বেকার সেখানে আপনারা হিন্দুর সন্তানকে ২০ লক্ষ টাকা দেন ব্যবসা করার জন্য। আপনাদের টাকা-পয়সা মানুষের জন্য। এতোদিন কোনো বাচ্চা পেশেন্ট পাই নাই। তাই আপনাদের সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেছি। আমার মতো এবার আপনাদের ছোট ছেলে কিডনি দিবে। আপনারা আমার ব্যবস্থা করেন নাই তাই এটা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না। আপনারা আপনাদের টাকা-পয়সা নিয়েই থাকেন। আর মানুষের ছেলেদেরই বড় বানান। আমার কিডনি বিক্রির সময় যেমন কিছু করতে পারেন নাই। এবারও পারবেন না, আপনাদের ছোট ছেলের সময়।

জানা যায়, তিন বছর আগে ফাহাদ বিন ইহসান তারেক টাকার জন্য তার একটি কিডনি বিক্রি করেন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াতেন। চিঠির সূত্র ধরেই হাজীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারেকের বাবা। পরে কৌশলে তারেককে পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে হাজীগঞ্জে নিয়ে আসেন। পরে গোপনে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ তারেককে আটক করেন।

আটক তারেকের মা ফরিদা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে আগে থেকেই মাদকের সঙ্গে জড়িত। নেশার কারণে সে ফ্যামিলির অনেক টাকা নষ্ট করেছে। তাই আমরা তাকে টাকা দিতে সাহস করিনি। পুলিশের হাতে আটক তারেক বলেন, আমি আমার ছোট ভাইকে অপহরণ করেছি শুধুমাত্র টাকার জন্য। কিডনি বিক্রির কথাটি চিঠিতে লিখে মা-বাবাকে ভয় দেখিয়েছিলাম। তারা আমাকে বাধ্য করেছেন এমন ঘটনা ঘটাতে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশারফ বলেন, অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে এবং অপহৃত রিহানও আমাদের জিম্মায় রয়েছে। আজ মঙ্গলবার অপহরণকারী আসামীকে আদালতে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন রনি ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ