আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মিষ্টির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্ত্রীকে মিষ্টির সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরঘাট গ্রামে রাতে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর নাম আনার কলি (৩৩)। তার স্বামীর নাম মোজাম্মেল হক। তারা তিনি উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরঘাট গ্রামে বসবাস করতেন। জানা গেছে, আজ সোমবার কলির লাশ দাফন করার চেষ্টা করছিল পরিবার। তবে পুলিশ খবর পেয়ে মৃতের লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কলির পরিবার থেকে জানা গেছে, ঈশ্বরঘাট গ্রামে পারিবারিক সম্মতিতে আনার কলির প্রথম বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রতিবেশি অটোরিকশা চালক মোজাম্মেল হকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ ঘটনা জানাজানি হলে স্বামীর সঙ্গে কলির বিচ্ছেদ ঘটে। পরে ২০১৮ সালের মে মাসে কলিকে বিয়ে করেন মোজাম্মেল। মোজাম্মেল হকের আগের পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর কলিকে বাবার বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে দিতে চাপ দেন মোজাম্মেল। তাতে রাজি ছিলেন না আনার কলি।

নিহত গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আনার কলিকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোজাম্মেল ও তার প্রথম স্ত্রী। এক পর্যায়ে গত শনিবার দুপুরের দিকে মোজাম্মেল ও তার প্রথম স্ত্রী মিষ্টির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে কৌশলে আনার কলিকে খাওয়ান। এ সময় আনার কলি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে ভর্তি করেন মোজাম্মেল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রোববার রাত ৩টার দিকে আনার কলির মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর বিষয়টি তার (আনার কলি) স্বজনদের না জানিয়ে গোপনে দাফনের প্রস্তুতি নেন মোজাম্মেল। পরে বিষয়টি জানার পর আনার কলির ভাই আব্দুস ছোবাহান পুলিশকে জানান। পরে দাফনের প্রস্তুতির সময় পুলিশ লাশ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে মোজাম্মেল হক বলেন, আমার স্ত্রী মিষ্টি খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। সে বমি ও পাতলা পায়খানা করে অচেতন হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ মিথ্যা।

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল জাব্বার বলেন, আনার কলির স্বামীর বর্ণনা অনুযায়ী ডায়ারিয়া রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, আনার কলির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার তদন্ত প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ