আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে মা – শিশুকে খুনের দায়ে ১ জনের ফাঁসির দণ্ড

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি.
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে জীবন্ত নবজাতককে পানিতে ছুঁড়ে হত্যার পর মাকেও পানিতে ডুবিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঘাতক নজরুল ইসলাম (২৯) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে নিহতের পরিবারকে দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে আসামির উপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত নজরুল ইসলাম পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের পাবদা গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের ছেলে।

নিহতরা হচ্ছে, রহিমা খাতুন (২৭) ও তার ৫৫ দিনের শিশুপুত্র আমিরুল। রহিমা খাতুন একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর মেয়ে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রহিমা খাতুনের প্রতিবন্ধিতার সুযোগে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল নজরুল। সালিশ দরবারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিতও হয়।

সালিশ দরবারে টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৯ই নভেম্বর কিশোরগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পুত্রসন্তান জন্ম দেয় রহিমা। সন্তান জন্মদানের পর নজরুলের ওপর রহিমাকে বিয়ের চাপ বাড়তে থাকে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ই জানুয়ারি রহিমা খাতুন ও তার শিশুপুত্র আমিরুলকে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নজরুল বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাত ৮টার দিকে আঙ্গিয়াদি মীরের টেক আতার বাড়ি কালভার্ট এর ওপর যায়।

সেখানে জীবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে বিলের পানিতে ছুঁড়ে মারে নজরুল। এরপর বিলের পানিতে রহিমাকে ডুবিয়ে মারে নজরুল।

হত্যাকাণ্ডের ৮দিন পর ২১শে জানুয়ারি মিরারটেক বিলভরা গুদি বিল থেকে গলিত অবস্থায় রহিমা খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ২২শে জানুয়ারি এই ঘটনায় নিহত রহিমার বড় ভাই আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে হত্যা ও গুমের অভিযোগ এনে নজরুল ইসলাম, নজরুলের ছোট ভাই দ্বীন ইসলাম (১৮), বাবা সোহরাব উদ্দিন ও মা মদিনা খাতুনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করেন।

রহিমা খাতুনের লাশ উদ্ধারের ১০দিন পর ৩১শে জানুয়ারি সন্ধ্যায় একই স্থান থেকে শিশুপুত্র আমিরুলের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরে ১৬ই ফেব্রুয়ারি ভোরে ফেনী জেলার দাগনভূঞার শ্রীরামপুর এলাকার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পরদিন ১৭ই ফেব্রুয়ারি আদালতে জোড়া খুনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় নজরুল।

আরও পড়ুন : আপত্তিকর অবস্থায় দেখে স্ত্রী ও যুবককে হত্যা

মামলার তদন্ত শেষে মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে একমাত্র নজরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে ২০১৮ সালের ২৪শে জানুয়ারি আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ