আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্পকে গোয়েন্দা তথ্য জানালে দেশের অমঙ্গল হতে পারে: বাইডেন

Spread the love

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টদের নিয়মিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য জানানোর শাসনতান্ত্রিক প্রথা ভাঙলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্পকে জানানো হলে তা দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে শুক্রবার একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাইডেন। সেখানে সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেলকে তাকে প্রশ্ন করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গোয়েন্দা তথ্য জানানো উচিত বলে তিনি মনে করেন কিনা।

এর উত্তরে বাইডেন বলেন, আমি মনে করি এটা উচিত হবে না। এ বিষয়ে আমি কোনো তর্ক বা উচ্চবাচ্যে যেতে চাই না… শুধু বলব, এর কোনো প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রের কি কোনো লাভ হবে এতে? কিংবা তিনি কি এসব তথ্যের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন? বরং আমার মনে হয়, তিনি যে পরিমাণ অস্থিরচিত্তের মানুষ, তাতে তাকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা তথ্য জানালে সেগুলো যেখানে সেখানে ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উল্টো বিপদ বয়ে আনতে পারে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকাকালেও ট্রাম্প যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য জানার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, তা বলার উপায় নেই। হোয়াইট হাউসে দেশটির অন্যান্য সাবেক প্রেসিডেন্টদের কক্ষে যেখানে প্রতিদিন লিখিত আকারে প্রতিবেদন জমা দিতে হতো, সেখানে ট্রাম্প সপ্তাহে একদিন কিংবা দু’দিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ডেকে এ বিষয়ে মৌখিক ব্রিফিং নিতেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস সূত্র।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছিলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য দেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মন্তব্য এটি পরিষ্কার- অভিশংসন খড়্গে পড়া ট্রাম্পের কাছে প্রতিদিন নিরাপত্তা তথ্য নিয়ে গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ উপস্থিত হচ্ছেন না।

ডেমোক্র্যাটসহ রিপাবলিকান পার্টির বেশ কিছু আইনপ্রণেতাও মনে করেন, বদান্যতা হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রীয় এমন তথ্য পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন তার আচরণের কারণে। নির্বাচনে হেরে ক্ষমতা ত্যাগের কথা ট্রাম্প এখনো স্বীকার করেননি। তা ছাড়া গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে সহিংস ঘটনার জন্য কংগ্রেস তাকে দায়ী করে অভিশংসন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক হিসেবে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন সুজান গর্ডন। সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক কলামে তিনিও প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে আহ্বান জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে যেন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা তথ্য না দেয়া হয়।

অনেকটা প্রথা অনুযায়ীই সাবেক প্রেসিডেন্টদের কাছে এ তথ্য দেয়া হয়। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের অনুমোদনক্রমে দেয়া হয় বলে বাইডেন প্রশাসন এ নিয়ে এর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে হয়েছে, শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভালো সম্পর্ক নয়—এমন বহু দেশের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালেও তার কোম্পানিগুলো এসব দেশের সাথে বাণিজ্য করেছে। দেশের স্বার্থে এবং ক্ষমতার শেষ সময়ে তার আচরণের কারণেই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্পকে না দেয়ার জন্য নানা মহল থেকে দাবি জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম স্যাচিফ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ না করতে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তাকে (ট্রাম্প) এখন বা আগামী দিনে—কোনো সময়ই বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ