আজ ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভোগ্যপণ্যের বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিত্যপণ্যের বাজার হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া সয়াবিন তেলের দাম এবার রেকর্ড গড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে লিটারে বোতলজাত সয়াবিনের দাম ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা দরে। এটিকে দামের রেকর্ড বলছেন ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আটা-ময়দার দামও। এ দুটি পণ্যের কেজিতে দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে নতুন দরে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার রূপচাঁদা সয়াবিন তেল ১৪০ টাকা এবং অন্যান্য কোম্পানির তেল ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যেসব দোকানে আগের দরের তেল রয়েছে তারাও এখন বাড়তি দামেই বিক্রি করছে। তবে দু-একটি দোকানে ১৩০ টাকা লিটারে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১৪ থেকে ১১৬ টাকায়। কারওয়ানবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, তেলের দাম রেকর্ড গড়েছে। এর আগে এত বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হয়নি।

এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে। রসুন, আদা ও হলুদের দামও বেড়ে গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দর কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম বেড়েছে লিটারে গড়ে ১০ টাকা।

আর এক বছরের ব্যবধানে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। দেশের বাজারে তেলের সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে আটা ও ময়দার দাম। কেজিপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা বেড়ে খোলা আটার দাম এখন ৩০ থেকে ৩২ টাকা, প্যাকেট করা আটা ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা, খোলা ময়দা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা ও প্যাকেট ময়দা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা হয়েছে। এবার মুড়িকাটা পেঁয়াজ আগাম তুলে ফেলায় মৌসুমও আগেভাগে শেষ হয়েছে। হালিকাটা পেঁয়াজ আসতে কিছুদিন সময় লাগবে। এ কারণে এখন বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে বলে জানান কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন।

তিনি বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এই বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, যা আগে ২০ থেকে ২২ টাকা ছিল। খুচরা বাজারে গতকাল প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩৬ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, টিসিবির খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত আছে। প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই বিক্রি কার্যক্রম এপ্রিল পর্যন্ত চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে গড়ে ১০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১১৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দেশি ও আমদানি করা আদা ৮০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি হলুদের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ২৩০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ