আজ ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক ধাপে ভর্তি পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। কয়েকটি ধাপে এ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এই ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ হাজার ১০৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।

ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষায় বসার আগেই শিক্ষার্থীদের ফি পরিশোধ করতে হবে। আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই-বাছাইয়ের পর পরীক্ষার জন্য মনোনীত হলে প্রার্থীর মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভা শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য এবং গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান জানান, করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত পরীক্ষার আয়োজন করা সম্ভব নয়। এজন্য কবে নাগাদ পরীক্ষা শুরু করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে আবেদন ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীর মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হবে। পরীক্ষায় বসার আগে তাকে ফি পরিশোধ করতে হবে। একজন প্রার্থী আবেদনের ক্ষেত্রে কোথায় ভর্তি হবে এবং পরীক্ষায় বসবে, তা নিজেই পছন্দ করতে পারবে। এ জন্য ২০টি চয়েজ বা পছন্দ করার অপশন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে সবার ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না। ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে যতগুলো আসনে বসার মতো সুযোগ থাকবে, ততো শিক্ষার্থীকে এসএমএস দিয়ে ডাকা হবে। এভাবে কয়েকটি ধাপে পরীক্ষা নেয়া হবে। ভর্তি পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে নেয়া হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে এক নম্বর। ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা হবে। ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন যাচাই-বাছাই করতে আলাদা ৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করতে আগামী সপ্তাহে সভায় বসার তথ্য জানিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম শেখ বৃহস্পতিবার বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কবে কোথায় পরীক্ষা আয়োজন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আগামী সপ্তাহে পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থ, রসায়ন এবং আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, অ্যাকাউন্টিং, বিজনেস অর্গানাইজেশন ও ম্যানেজমেন্ট এবং আইসিটি বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। মানবিক বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলা, ইংরেজি এবং আইসিটি বিষয়ের ওপর করা প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এসএসসি, এইচএসসির জিপিএ বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। তবে এবার যে পরিমাণ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা অনেক কঠিন হবে। লিখিত ভালো করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কষ্ট হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, যেহেতু এবার সবাই পাস করেছে, সেজন্য সবার হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্ভব হবে না। সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে তাও তো নয়। আমাদের আরও নানা রকম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কারিগরি শিক্ষার অনেক জায়গা আছে। সেখানে জায়গা খালি থাকে, কিন্তু আমরা শিক্ষার্থী পাই না। এবার আশা করি সেদিকে অনেকেই যেতে উদ্বুদ্ধ হবে। এটা তাদের জন্যও ভালো, দেশের জন্যও ভালো।

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের যোগ্যতা

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মোট জিপিএ ৭ (চতুর্থ বিষয় ছাড়া), ব্যবসায় শিক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মোট জিপিএ ৬.৫ (চতুর্থ বিষয় ছাড়া) এবং মানবিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মোট জিপিএ ৬ (চতুর্থ বিষয় ছাড়া) নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানবণ্টণ হবে যেভাবে

বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে ২০ নম্বর, রসায়নে ২০, জীববিজ্ঞান, গণিত এবং আইসিটি মিলে ৪০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। জীববিজ্ঞান, আইসিটি ও গণিতের মধ্যে যে কোনো দুটি বিষয়ের উত্তর দিতে হবে। আর বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ১০ নম্বর করে মোট ২০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।

বাণিজ্য বিভাগের জন্য হিসাববিজ্ঞানে ২৫ নম্বর, বিজনেস অর্গানাইজেশন ও ম্যানেজমেন্টে ২৫, আইসিটিতে ২৫, বাংলায় ১৩ এবং ইংরেজি বিষয়ে ১২ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। আর মানবিক বিভাগে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ এবং আইসিটি বিষয়ে ২৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ