আজ ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক ওষুধ, নেই নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কোনো নিয়ম নীতি না মেনেই দীর্ঘদিন থেকে দেশব্যাপী বিভিন্ন হাট-বাজার ও পথে-ঘাটে অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক ওষুধ। মাইকিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এদিকে কম দামে এসব ওষুধ কিনে একদিকে প্রতারিত হচ্ছেন সহজ-সরল মানুষ, অন‌্যদিকে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেও পড়ছেন তারা। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নজরদারি জরুরি।

প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড ছাড়া ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ, ওষুধকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা এবং শুষ্ক ও রোদমুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু তা মানছেন না ওষুধ ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে মজমা বসিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এরা প্রকাশ্যে মাইক বাজিয়ে বিভিন্ন ওষুধ বিক্রি করছে। এই প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বলেন, মফস্বলের হাট-বাজারে অবাধে যে ওষুধ বিক্রি হয়, আমরা পরিদর্শনের সময় সেসব অবৈধ ওষুধ তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করি। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়। তখন তাদের ধরে জরিমানা করা হয়। অনেক সময় আইনরক্ষাকারী বাহিনীর হাতেও সোপর্দ করা হয়। দুচারদিন জেলে থেকে এরা আবার জামিনে বেরিয়ে আসে। জনবল সমস্যাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা স্বত্বেও আমাদের পক্ষ থেকে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কেবল মফস্বল শহরে নয়, রাজধানীর নাম করা অনেক ফার্মেসিতেও এসব যৌন উত্তেজক, মেয়াদোর্ত্তীর্ণ, অবৈধ ওষুধ পাওয়া যায়। গুলশান-২, মিরপুর-১, ১০, উত্তরা, কলাবাগান, আরামবাগ, শাহবাগ, ঢাকা মেডিক্যালের চানখাঁরপুল এলাকা, মিটফোর্ডের বিভিন্ন ওষুধ মার্কেটে।

সম্প্রতি যৌন উত্তেজক ওষুধ ভায়াগ্রা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। ভায়াগ্রা বিক্রির জন্য সরকার যে অনুমতি দিয়েছে, তাতে নতুন করে সমস্যা তৈরির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। তারা ভায়াগ্রা বিক্রির অনুমতি বাতিলের জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে ভায়াগ্রা প্রস্তুত হয় স্লিডেনফিল সিট্রেট নামে। এই ট্যাবলেট এতদিন ধরে তৈরির অনুমতি ছিল গুটিকয়েক কোম্পানির জন্য। তাও সেসব ওষুধ ছিল কেবল রপ্তানির জন্য। তবে কয়েকদিন আগে সরকার এই ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন করে আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে এই ওষুধ তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তা শাহ রুহুল আমিন। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মতামত পাওয়ার পর সরকার ১৩টি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে ভায়াগ্রা তৈরি এবং বাজারে বিক্রির অনুমতি দিয়েছে।

জানা গেছে, সরকারি কমিটির কাছে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পুরুষত্বহীনতার সমস্যায় ভুগছেন এমন লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সেজন্য স্থানীয় বাজারগুলোতে ভায়াগ্রা বিক্রির অনুমতি দিতে তারা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই নিয়ে নিজেদের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা সাদমান সাদ বলেন, যৌন ওষুধ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি থাকা জরুরি।

বাংলাদেশ মেডিক‌্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা চাই সরকার এই লাইসেন্স বাতিল করুক৷ কারণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ ব্যবহার করলে, ব্যবহারকারীর হাইপারটেনশন,ডায়াবেটিস এমনকি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

উদ্বেগের সঙ্গে এহতেশামুল হক বলেন, আমাদের দেশে ওষুধের দোকান থেকে সব ধরনের ওষুধ কেনা সম্ভব৷ তাই, স্থানীয় বাজারে ভায়াগ্রা বিক্রির অনুমতি দিলে দেখা যাবে, সবাই এই ওষুধ কিনছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ