আজ ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে ৬ মাসের কাজ আড়াই বছরেও শেষ হয়নি

Spread the love

শহীদুল ইসলাম পলাশ, সম্পাদক :

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলী ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে নদীর পাড়ঘেঁষা একটি রাস্তার নির্মাণকাজ ছয় মাসে শেষ করার কথা থাকলেও আড়াই বছরেও তা শেষ করতে পারেননি ঠিকাদার। ব্যাপক অনিয়মের মধ্য দিয়ে থেমে থেমে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজ ফেলে রাখায় বর্ষা মৌসুমে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহায়। এদিকে কাজ শেষ না করায় নির্র্মাণাধীন ওই সড়কের পাশের আরসিসি ব্লক ধসে ও ভেঙে নদীতে পড়ছে।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দানাপাটুলী ইউনিয়নের হাজীপুরে ১১০০ মিটার আরসিসি ও ৮০০ মিটার কার্পেটিংসহ রাস্তার কাজ পায় মম কনস্ট্রাকশন নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের জুনের প্রথম দিকে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কিছুদিন কাজ চলার পর বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়।

এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ওই বছরের নভেম্বর মাসে। কিন্তু তখন কাজের মাত্র ১০ ভাগও শেষ হয়নি। পরে ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। ঠিকাদার আবার কাজ শুরু করলেও ‘বোরো জমিতে ধান রোপণ করে ফেলায় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না’ এ অজুহাতে আবার কাজ বন্ধ রাখা হয়। এর মধ্যে কয়েক দিন পরপর কিছু মাটি ফেলা হয়। ২০২০ সালে বর্ষাকালের আগে আবার কাজ শুরু করে ঠিকাদার।

তখন রাস্তায় সুরকি ফেলে নদীর পাড় ঘেঁষে ব্লক বসানো হয়।
পরে বর্ষাকালের পানি রাস্তায় উঠলে আবার কাজ বন্ধ থাকে। সম্প্রতি হাজীপুর গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার বেশিরভাগ জায়গার ব্লক ধসে নদীতে পড়ে যাচ্ছে।

হাজীপুরের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম দৈনিক তোলপাড়কে বলেন, এ কাজে ব্যাপক অনিয়ম থাকলেও গ্রামবাসী কোনো প্রতিবাদ না করে তাদের চলাচলের রাস্তাটির কাজ যেন তাড়াতাড়ি শেষ হয় সেটাই চেয়েছে। কিন্তু কাজের শুরু থেকেই তার কোনো গতি দেখছি না।

এলাকার ভুক্তভোগী আবদুল খালেক মাস্টার, আহম্মদ আলী, আবদুল জলিল, ফুয়াদ মুনতাসিরসহ অনেকেই দৈনিক তোলপাড়কেঅভিযোগ করেন, ঠিকাদার আড়াই বছর ধরে আমাদের চরম ভোগান্তিতে রেখেছে। বর্ষাকাল না এলে তারা কাজ করতে আসে না। আর রাস্তায় মাটি যতটুকু উঁচু করার কথা ছিল তা করেনি তারা। ফলে গত বর্ষাকালে অধিকাংশ রাস্তা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে ছিল।

মম কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান জীবন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে দৈনিক তোলপাড়কে বলেন, আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে রাস্তার কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জুনায়েদ আলম দৈনিক তোলপাড়কে বলেন, গত বর্ষায় রাস্তায় পানি ওঠায় ব্লকগুলো অনেক জায়গায় সরে যায়। এগুলো মেরামত করে পিচ ঢালাই করলেই কাজের সমাপ্তি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ