আজ ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে হত্যার পর ৬ টুকরো লাশ গুমের মামলায় প্রেমিকাসহ ২জনের ফাঁসি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি.
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চাঞ্চল্যকর নবী হোসেন হত্যা ও লাশ ৬ টুকরা করে গুমের মামলায় এক নারীসহ দুই জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাওে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত নবী হোসেনের সাবেক প্রেমিকা সুমনা বেগম ওরফে শিলা (৩০) ও সুমনার সাবেক স্বামী নজরুল ইসলাম (৩৮)। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক দন্ড দেয়া হয়েছে। আসামি সুমনা পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার অন্য তিন আসামি উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি আশরাফুল রাসেল ও মো. শরীফ মিয়াকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মৃত্যুপ্রাপ্ত আসামি নজরুলের সঙ্গে সুমনা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে বিয়ে হলেও ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে ভৈরব সদরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া গ্রামের কবিরাজ নবী হোসেনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুমনার। ভৈরবের চন্ডিবেড় দক্ষিণপাড়া গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন সুমনা। নজরুল ইসলামের সঙ্গে সুমনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে এ নিয়ে নবী হোসেনের সঙ্গে সুমনার বিরোধ বাধে। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর নবী হোসেনকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান সুমনা। এদিন গভীর রাতে সুমনার বাসায় নবী হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ৬ টুকরা করে ভৈরবের কয়েকটি স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়।
২৩ ডিসেম্বর পুলিশ নিহতের মৃতদেহের আংশিক উদ্ধার করে। ২৫ মৃতদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা করেন নিহতের স্ত্রী বিলকিছ বেগম। পরে মামলাটি সিআইডিতে পাঠানো হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এসআই মো. নজরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি চার জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ