আজ ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়ল রেকর্ড পরিমাণ টাকা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া গেছে। পাঁচ মাস পর সিন্দুক খুলে আজ শনিবার এ বিপুল পরিমাণ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও বেশ কিছু স্বর্ণালংকারও মিলেছে।

এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২২ আগস্ট দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল। তখন ১ কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দানবাক্স খুলে ১ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকা পাওয়া যায়।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে পাগলা মসজিদের অবস্থান। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দানসিন্দুকগুলোতে নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ছাড়াও গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন। কথিত আছে, এই মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। সে জন্য দূরদূরান্ত থেকে ধর্মমত নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ এখানে দান করে থাকেন। এবার করোনার জন্য কিছুদিন মসজিদ বন্ধ থাকলেও দান–খয়রাত অব্যাহত থাকে।

দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতসহ জটিল রোগীদের চিকিৎসায় এর অর্থ ব্যয় করা হয়। গত আগস্টে পাওয়া দানের টাকা থেকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কিনে দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, শনিবার সকাল ১০টায় মসজিদের ৮টি দানসিন্দুক খোলা হয়। সিন্দুক থেকে কয়েকটি বস্তায় টাকা ভরা হয়। এরপর মেঝেতে রেখে শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় মসজিদ ও মাদ্রাসার ৬০ জন ছাত্র–শিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

গণনার পর সাজিয়ে রাখা হয়েছে দানবাক্সে পাওয়া টাকা।
আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, এবার গণনা শেষে যে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া গেছে, তা রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রাসহ বেশ কিছু স্বর্ণালংকার পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়েছে। এখানে ১০০ কোটির অধিক টাকা দিয়ে বড় আকারের একটি পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এর আগে কখনো তিন মাস, কখনো পাঁচ মাস পরপর সিন্দুক খোলা হতো। দানসিন্দুক খুলে একসঙ্গে এত টাকা এর আগে কখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান আব্দুল্লাহ আল মাসউদ।

টাকা গণনার কাজে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম, মো. উবায়দুর রহমান, মো. জুলহাস হোসেন ও মো. ইব্রাহীম, পাগলা মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ