আজ ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে উসকানির অভিযোগ দায়ের হচ্ছে

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবনে হামলায় নেপথ্য ভূমিকা রাখার অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংসদীয় বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট পার্টি।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৬ জানুয়ারি ‘অভ্যুত্থানে উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগটি সোমবার হাউসে ডেমোক্র্যাটরা দায়ের করতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

কংগ্রেসের নিম্ন-কক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলসি বলছেন, ট্রাম্প যদি এই মুহূর্তে পদত্যাগ না করেন তাহলে তারা বিচারের লক্ষ্যে একটি সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ নিয়ে কাজ শুরু করবেন।

তাদের অভিযোগ, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উসকানিতে কংগ্রেসের ভেতরে বুধবারের দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনাটি ঘটে। যার জেরে ৫ জন প্রাণ হারান।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাবী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, বিচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস। তবে তিনি বহুদিন ধরে জানতেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত নন।

হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ১৬০ প্রতিনিধি ইতোমধ্যেই আর্টিকেল অফ ইমপিচমেন্ট অর্থাৎ সংসদীয় বিচারের আইনের খসড়াটিতে সই করেছেন।

বুধবার কংগ্রেসে ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামার মধ্যে আটক থাকা অবস্থায় ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান টেড লিউ এবং রোড আইল্যান্ডের কংগ্রেসম্যান ডেভিড সিসিলিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচারে আইনের খসড়াটি তৈরি করছেন।

উদ্যোগটি যদি সত্যিই কার্যকর হয়, তাহলে এটি হবে ট্রাম্পের বিচারের জন্য হাউস অফ রেপ্রেজেনটেটিভের দ্বিতীয় দফা প্রচেষ্টা। এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধাদানের অভিযোগে সংসদের নিম্ন কক্ষে ট্রাম্পের বিচার করা হয়। কিন্তু পরের বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে দুটি অভিযোগই খারিজ হয়ে যায়।

মার্কিন ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টই দু’বার বিচারের সম্মুখীন হননি। তবে ট্রাম্পের শাস্তির সম্ভাবনা কম। কারণ, সিনেটে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি বেশ শক্তিশালী।

সিনেটে একজন নরমপন্থী রিপাবলিকান অ্যালাস্কার লিসা মারকোস্কি অ্যাঙ্কোরেজ ডেইলি নিউজ পত্রিকাকে বলছেন, ট্রাম্পের এখন উচিত হবে কেটে পড়া।

নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটার বেস স্যাসি নিয়মিতভাবে ট্রাম্পের সমালোচনা করে থাকেন। তিনি বলছেন, বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি অবশ্যই সেটা সমর্থন করবেন।

তবে ট্রাম্পের শাস্তির পক্ষে তার দলের বেশিরভাগ সদস্য রয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ এখনো নেই। এর মানে হলো কংগ্রেসের দাঙ্গার জন্য সংসদের নিম্নকক্ষে ট্রাম্পের যেকোনো বিচার হলে সেটা হবে মূলত প্রতীকী।

সিনেটের একটি অভ্যন্তরীণ মেমো থেকে জানা যাচ্ছে, নিম্নকক্ষ থেকে আসা কোনো বিচারের সিদ্ধান্ত সিনেট ১৯ জানুয়ারির আগে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করতে পারবে না। আর সেটি হবে ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার আগের দিন। এই ক্ষেত্রে ক্ষমতা ত্যাগের পরও সিনেটে ট্রাম্পের বিচার চলতে পারে কিনা তা নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

যদি বিচারে দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে সাবেক প্রেসিডেন্টে হিসেবে ট্রাম্প তার প্রাপ্য বেতন-ভাতাদি কিছুই পাবেন না। তিনি যাতে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে অংশ না নিতে পারেন, সিনেটররা সেই প্রস্তাবও অনুমোদন করতে পারেন।

কংগ্রেসের দাঙ্গার ঘটনাতে মার্কিন রাজনীতিকরা একটাই নাড়া খেয়েছেন যে, তাদের অনুরোধে ডেমোক্র্যাটিক হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ অধিনায়কদের সাথে কথা বলেছেন, যাতে ট্রাম্প পরমাণু অস্ত্রের কোড ব্যবহার করতে না পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ