আজ ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভাস্কর্যবিরোধীদের প্রস্তাব আমলে নেওয়ার কারণ দেখছে না আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে বিতর্কের মধ‌্যেই কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের পর ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশব‌্যাপী প্রতিবাদে সোচ্চার। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ করা হচ্ছে। এরইমধ‌্যে ভাস্কর্যবিরোধীদের পক্ষ থেকে যে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা আমলে নেওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ভাস্কর্য ভাঙা ক্ষমার অযোগ‌্য অপরাধ। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে আবেগ-অনুভূতির নাম। সেই অনুভূতির ওপর আঘাত করার পর কে কী প্রস্তাব করল, তা আমলে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে কুষ্টিয়ায় নির্মানাধীণ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, ভাস্কর্য নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক নিরসনে শনিবার (৫ ডিসেম্বর) ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ আলেমরা। এর মধ‌্যে প্রথম প্রস্তাব হচ্ছে—কারো প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে মূর্তি ও ভাস্কর্য নির্মাণ না করে শতকরা ৯০ ভাগ জনগণের বিশ্বাস ও চেতনার আলোকে কোরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোনো উত্তম বিকল্প সন্ধান করতে হবে।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার কোনো স্থান নেই জানিয়ে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস‌্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এই করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ‌্যে হঠাৎ করেই শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পেছনে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর নেপথ‌্য কারণ আছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননা করার মাধ‌্যমে তারা বড় ধরনের অন‌্যায় করেছে। এর শাস্তি হবেই।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, এই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক। এখানে সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার কোনো স্থান নেই। যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার বিরুদ্ধে এবং মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে অসম্মান করা মানে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে অসম্মান করা। এর প্রতিবাদে সারা দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব‌্যক্ত করছে। এরইমধ‌্যে সরকার আইনানুগ ব‌্যবস্থা নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান-অবমাননা মেনে নেওয়া হবে না।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ‌্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননা মানে বাংলাদেশকে অবমাননা, বাংলাদেশের সংবিধানকে অবমাননা, মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা। যারা এ কাজ করেছে, তারা কী প্রস্তাব দিলো, সেটি ভাবার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নেই। ভাস্কর্যে যারা হাত দিয়েছে, তাদের ক্ষমা নেই। এর নেপথ্যে কারা জড়িত সেটিও খুঁজে বের করা দরকার।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে আবেগ-অনুভূতির নাম। সেই অনুভূতিকে আঘাত করার পর এমনিতেই নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ। তারপরও এখন পর্যন্ত তারা ধৈর্য ধরে আছে। কিন্তু পরিস্থিতি না পাল্টালে তারা আর ধৈর্য ধরে থাকবে না। ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেলে সমুচিত জবাব আসবে। তাই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বলব, যা হয়েছে তার জন‌্য জাতির কাছে ক্ষমা চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ