আজ ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে ভূমি কর্মকর্তা ‘দুর্ঘটনায় নিহত’কে ঘিরে রহস্য, ময়না তদন্তে লাশ মর্গে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি.
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ আতিকুর রহমান (৪৫) এর ‘দুর্ঘটনায় নিহত’ হওয়া ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিহতের কারণ জানার জন্য দাফন না করে লাশ ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৬ ডিসেম্বর) রাতে পোস্টমর্টেমের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়েছে। সেখানে সোমবার (৭ ডিসেম্বর) লাশের ময়না তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। নিহত ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ আতিকুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নগুয়া এলাকার সৈয়দ আবু সাহিদের ছেলে।
মোটর সাইকেলযোগে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে রোববার (৬ ডিসেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ-চামড়াবন্দর সড়কে উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মনসন্তোষ এলাকায় রহস্যজনকভাবে নিহত হন সৈয়দ আতিকুর রহমান। তখন ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত একটি হিরো মোটর সাইকেল (কিশোরগঞ্জ-হ ১২-৬০১৭) উদ্ধার করে পুলিশ। মোটর সাইকেলটি সৈয়দ আতিকুর রহমানের এই ধারণা থেকে তিনি অজ্ঞাত এক ঘাতক যানের চাপায় নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকালে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, উদ্ধার হওয়া মোটর সাইকেলটি সৈয়দ আতিকুর রহমানের নয়। তিনি নিজের টিভিএস মোটর সাইকেল (কিশোরগঞ্জ-হ ১২-২৬২৬) নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের বাসা থেকে কর্মস্থল ইটনা উপজেলার বাদলায় যাচ্ছিলেন। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পর করিমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম বিকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সেখানে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে পার্ক করা অবস্থায় সৈয়দ আতিকুর রহমানের টিভিএস মোটর সাইকেলটি পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সৈয়দ আতিকুর রহমানের উদ্ধার হওয়া মোটর সাইকেলে দুর্ঘটনার কোন আলামত নেই। সেটি অক্ষত ছিল। অন্যদিকে ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা সৈয়দ আতিকুর রহমানের একটি রক্তাক্ত ছবি ফেসবুকে পাওয়া যায়। সেটিতে দেখা যায়, মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত সৈয়দ আতিকুর রহমানের প্যান্টের ব্যাল্ট নেই। সেটি তার নিথর দেহের কিছুটা দূরে পড়ে রয়েছে। এ সব আলামত থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা সৈয়দ আতিকুর রহমানের ‘দুর্ঘটনায় নিহত’ হওয়ার বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে নিহতের কারণ জানার জন্য দাফন না করে লাশ ময়না তদন্ত এবং আইনী পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
এ ব্যাপারে করিমগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। সোমবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ