আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চসিক নির্বাচন: চার প্রার্থীর মৃত্যু, কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন?

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হতে আরও বাকি দুই মাস। নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে নির্বাচন শেষ করতে হয় নির্বাচন কমিশনকে।

কিন্তু এক সংরক্ষিত কাউন্সিলর সহ মোট চার কাউন্সিলর প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় তৈরি হয়েছে জটিলতা।
মারা যাওয়া ওই চার প্রার্থীর এলাকায় কাউন্সিলর নির্বাচন হবে কিনা কিংবা পুনরায় নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা নিয়ে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

তবে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, চসিক নির্বাচন নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার পর গত কয়েক মাসে চার প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন।

তারা হলেন- সংরক্ষিত ওয়ার্ড (১৭, ১৮ ও ১৯) কাউন্সিলর প্রার্থী সাহিদা বেগম পারভীন, ৩০ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হোসেন মুরাদ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, নির্বাচন ডিসেম্বরের শেষে হোক অথবা জানুয়ারিতে হোক আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পেলে আমরা কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। মৃত্যুবরণ করা প্রার্থীর এলাকায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচন একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে, নাকি পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন আইন-২০০৯ (সংশোধিত) আইনের বিধি ২০ এর উপবিধি-১ ধারায় বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের পূর্বে কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট পদের নির্বাচন কার্যক্রম রিটার্নিং অফিসার গণবিজ্ঞপ্তি দ্বারা বাতিল করবেন।

এছাড়া একই বিধির উপবিধি-৩ এ বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসার হতে অবহিত হওয়ার পর নির্বাচনি এলাকার সংশ্লিষ্ট পদে নতুন নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করবেন এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তবে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন ইতোপূর্বে বৈধ বলে গণ্য হলে এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করলে নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে না।

এর আগে গত ৫ আগস্ট চসিকের মেয়াদ শেষ হলে ১৮০ দিনের জন্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় খোরশেদ আলম সুজনকে। যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন (সিটি করপোরেশন) আইনের ২৫ ধারা (অবস্থা বিশেষে প্রশাসক নিয়োগ) অনুযায়ী এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। এছাড়া সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ৫৫ পদে ২৬৯ প্রার্থী মনোনয়ন পান।

মেয়র প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী (নৌকা), বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এমএ মতিন (মিনার), এনপিপির আবুল মনজুর (আম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার) ও স্বতন্ত্র খোকন চৌধুরী (হাতি)।

২০১৫ সালে ৬ আগস্ট মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। সে হিসাবে পর্ষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৫ আগস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ