আজ ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মহানগরে না খেয়ে দিন কাটে ৩ ভাগ পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের মহানগরগুলোয় ৮ শতাংশ পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যকে খাবার না থাকায় ক্ষুধার্ত অবস্থাতেই রাত কাটাতে হয়েছে। এর বাইরেও প্রায় ৩ শতাংশ পরিবারের সদস্যদের দিন-রাত কোনো সময়ই কোনো খাবার জোটেনি। দেশের অন্যান্য মহানগরের তুলনায় খাদ্য সংকটে ভুগতে থাকা এমন পরিবারের সংখ্যা ঢাকা ও চট্টগ্রামে বেশি। গতকাল বুধবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নগর আর্থসামাজিক অবস্থা জরিপ-২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। গত বছরের ৮ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এ জরিপটি চালানো হয়।

দেশের নগরগুলোয় মানুষের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি তুলে আনতে আটটি বিভাগীয় শহরের ৮৬টি নমুনা এলাকায় জরিপটি পরিচালনা করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। এসব এলাকায় ২ হাজার ১৫০টি পরিবারের (নগরাঞ্চলের খানা) তথ্য সংগ্রহ করা হয় জরিপের আওতায়। তাতে নগরে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য, সঞ্চয় ও ঋণ পরিস্থিতি, নাগরিক সুযোগসুবিধা, পানি ও পয়ঃব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর প্রভৃতি বিষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।

দেশের নগরগুলোয় মানুষের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি তুলে আনতে আটটি বিভাগীয় শহরের ৮৬টি নমুনা এলাকায় জরিপটি পরিচালনা করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। এসব এলাকায় ২ হাজার ১৫০টি পরিবারের (নগরাঞ্চলের খানা) তথ্য সংগ্রহ করা হয় জরিপের আওতায়। তাতে নগরে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য, সঞ্চয় ও ঋণ পরিস্থিতি, নাগরিক সুযোগসুবিধা, পানি ও পয়ঃব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর প্রভৃতি বিষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ দশমিক ২২ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে- তাদের কোনো না কোনো সদস্যকে রাতে না খেয়েই থাকতে হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এ সংখ্যা ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরের নগরগুলোয় ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। একই জরিপে অংশ নেওয়া ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়ার আগের এক মাসের কোনো না কোনো সময় তাদের ঘরে কোনো ধরনের খাবারই ছিল না। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এই হার ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ। ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে এই হার ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া নগরাঞ্চলের পরিবারগুলোর মধ্যে ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ পরিবার বলছে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য থাকবে কিনা, সেটি নিয়ে তারা শঙ্কিত। আর ২০ দশমিক ৬৪ শতাংশ পরিবার বলছে, তারা পছন্দসই খাবার খেতে পারেন না। এর বাইরেও তিন বেলা খাবার খাওয়ার জন্য একেক বেলায় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে ১৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ পরিবার। আর অপছন্দের খাবার খেতে হয়েছে ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ পরিবারকে। প্রয়োজনের তুলনায় কম খেয়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ পরিবার।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের চিত্র বলছে, প্রায় ৬৭ দশমিক ২৩ শতাংশ পরিবার অন্য পরিবারের সঙ্গে টয়লেট ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে থাকে। বাইরের নগরগুলোয় এই হার ৩৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। নগর অঞ্চলের পরিবারগুলোর পানি, পয়ঃব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি সুবিধা সম্পর্কে বলা হয়েছে, নগরের ৮৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ পরিবারের টয়লেটের পাশে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যা ঢাকা-চট্টগ্রামের পাশাপাশি অন্য নগরগুলোতেও প্রায় সমান।

এ ছাড়া ৯০ শতাংশ পরিবারে হাত ধোয়ার স্থানে পানির উপস্থিতি রয়েছে, হাত ধোয়ার স্থানে সাবান বা এ জাতীয় পণ্যের উপস্থিতি রয়েছে ৬৬ শতাংশ পরিবারে। আর নগরে পানি সরবরাহের সুবিধা পেয়ে থাকে ৯১ দশমিক ৫৬ শতাংশ পরিবার, যা ঢাকা-চট্টগ্রামে ৯২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বাইরের শহরগুলোয় ৮৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আর নগরগুলোয় ৪৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ পরিবারে স্যানিটারি ল্যাট্রিন, ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ পরিবারে পাকা ল্যাট্রিন (পানি নিরোধক), ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ পরিবারে পাকা ল্যাট্রিন (পানি নিরোধক নয়), শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ পরিবারে কাঁচা স্থায়ী ল্যাট্রিন ও শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ পরিবারে কাঁচা অস্থায়ী ল্যাট্রিন রয়েছে। শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ পরিবারে ল্যাট্রিন নেই।

বিবিএসের এই জরিপে আটটি বিভাগীয় শহরকে জরিপ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে নিম্নআয়ের অংশকে প্রাধিকার দিয়ে নগরাঞ্চলের খানা তথা পরিবার নির্বাচন করা হয়। উচ্চ, মধ্যম ও নিম্নআয়- এই তিনটি স্তরে নির্বাচন করা হয় নমুনা পরিবার। প্রতিবেদনে বিবিএস মহাপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলছেন, দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলো থেকে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউ (ক্যাপি) মোবাইল অ্যাপে ২০টি মডিউলে দীর্ঘ প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামান্য ক্ষুধার্ত বা ক্ষুধার্ত নয় এমন পরিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৯৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে বাকি নগরগুলোয় এর পরিমাণ ৯৫ দশমিক ১০ শতাংশ। সার্বিকভাবে এই হার ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মোটামুটি ক্ষুধার্ত পরিবারের হার ঢাকা-চট্টগ্রামে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং সার্বিকভাবে ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর তীব্র ক্ষুধার্ত পরিবার ঢাকা-চট্টগ্রামে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ, ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং সার্বিকভাবে শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নগরাঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী বয়সের ৯৩ শতাংশ শিশু এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী বয়সের ৬৮ শতাংশ শিশু স্কুলে যায়। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার প্রবণতার বিপরীতে মাধ্যমিক পর্যায়ে গিয়ে স্কুলে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কম।

পেশার বিষয়ে বলা হয়েছে, নগরাঞ্চলে ঝুঁকিপ্রবণতার মধ্যে থাকা পরিবারগুলোর পরিবারপ্রধানের পেশার মধ্যে বেতনভিত্তিক কাজ করেন ২৫ শতাংশ, ২০ শতাংশ ব্যবসাবাণিজ্য করেন। এ ছাড়া ১৮ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থান এবং ১৫ শতাংশ দিনমজুর হিসেবে নিয়োজিত। এ ছাড়া ১৬ শতাংশের বেশি পরিবারপ্রধান কোনো ধরনের আয়ের সঙ্গে যুক্ত নন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সবগুলো নগরের ৯৮ শতাংশ পরিবারের বাসগৃহে ঢেউটিন, সিআই শিট, ইট, সিস্টেম বা কংক্রিটের উপকরণে তৈরি স্থায়ী দেয়াল রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ