আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রাথমিকে পরীক্ষা ছাড়াই উত্তীর্ণ: যা বললেন শিক্ষক-অভিভাবকরা

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক:

করোনা-সংক্রমণ এড়াতে এবার বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণের নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রথম আড়াই মাসের ক্লাস ও করোনার সময় যেসব শিক্ষা কার্যাক্রম চালানো হয়েছে, তার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই নির্দেশনায় খুশি শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত খুদে শিক্ষার্থীদের জন‌্য মঙ্গলজনক। এর ফলে করোনা সংক্রমণ অনেকাংশেই ঠেকানো সম্ভব।

ইতোমধ্যে দেশের বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ‌্যালয়ে এই নির্দেশনা পৌঁছে গেছে। শিক্ষকরা শিগগিরই এই নির্দেশনার আলোকে কাজও শুরু করেছেন।

রাজধানীর একটি প্রাথমিক বিদ‌্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইমা মহিউদ্দিন বলে, আমি টেলিভিশনের পাঠ দেখি নিয়মিত। এর মাধ্যমে অনেক কিছু শিখতে পারছি।

মাজেদুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তান তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তাকে অ্যাসাইনমেন্ট দিলে সে বুঝবে না। এমন পরিস্থিতে তার আগের ক্লাস টেস্ট, রোল নম্বরের ওপর মূল্যায়ন করলেই ভালো হয়।

প্রায় একই অভিমত জানালেন আরেক অভিভাবক সাজাহান খানও। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে শিশুদের স্কুলে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের আগের ক্লাস রোল-টেস্টের ভিত্তিতে মূল‌্যায়ন করলে নিশ্চিত থাকা যায়। কারণ বর্তমান অবস্থায় শিশুদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব নয়।

ফেনীর উত্তর শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, সত্যি বলতে দিন দিন শীতের প্রকোপ যেভাবে বাড়ছে, তা সবার জন্যই ঝুঁকির। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা কোনোভাবেই উচিত হবে না।

রাজধানীর মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ হোসাইন বলেন, করোনার প্রকোপ আবার বাড়ছে। এই অবস্থায় খুদে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের অ্যাসাইনমেন্ট বা স্কুলে আসার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য সুবিধা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ১৬ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস হয়েছে। ওই সময় তাদের ক্লাস টেস্ট নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা পড়িয়েছেন। এখন সেসব মূল্যায়নে আনা হবে। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বয়স বিবেচনা করে মাধ্যমিকের মতো তাদের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৩ নভেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির মধ্যে সংসদ টেলিভিশন, বেতার, কমিউনিটি রেডিও ও জুম প্ল্যাটফর্মে যেসব শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হয়েছে, সেগুলো বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া, ছুটির মধ্যেও অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়া দিয়ে তা আদায় করেছেন। এর বাইরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। যার তথ্য-উপাত্ত শিক্ষকদের কাছে রয়েছে, সেগুলোও মূল্যায়ন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     সম্প্রতি প্রকাশিত আরো সংবাদ