আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

গ্রামীণ রাস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ

ঢাকা প্রতিনিধি :

গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামো নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫টি প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প: বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর প্রকল্পের প্রথম সংশোধন অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ৩০৫ কোটি বাড়িয়ে ৯৫০ কোটি থেকে ১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে পরিকল্পনা সচিব আসাদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুবই গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন যে, আমরা অনেক কাজ করছি গ্রামীণ রাস্তা, গ্রামীণ অবকাঠামোর।

কাজগুলো সত্যিকার হচ্ছে কি না,কোয়ালিটিফুল (মানসম্মত) হচ্ছে কি না- সেগুলো ভালো করে পরখ করতে হবে। এসময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন, মাল্টিপ্লেয়ার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন।

তারপরও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাজের কোয়ালিটি যেন ঠিক থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তায় যেন পানি না জমে। কারণ রাস্তায় পানি জমলে সেটা নষ্ট হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী আরেকটা মাস্টারপ্ল্যান করার কথা বলেছেন, কোন রাস্তা, কত রাস্তা, কোথায় করা হবে সে বিষয়ে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নেতৃত্বে গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামো নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

৫ হাজার ৯০৫ কোটি ৫৯ লাখ খরচে আজকের একনেকে ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তাগুলো খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতি দ্রুত এগুলো করতে হবে। তবে অন্যান্য মন্ত্রণালয় যারা রাস্তা করে বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটা করতে হবে। যাতে কোনো ওভারলেপিং না হয়। কোন কাজটুকু করতে হবে, কত কাজ বাকি থাকছে, কোন মন্ত্রণালয় করলে ভালো হয় – এগুলো সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। আগামী বর্ষা আসার আগেই যেন মূল কাজগুলো হয়ে যায়। তাতে সাশ্রয়ী হবে।

নদী ভাঙনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব বলেন, নদী ভাঙন রক্ষায় মূল কৌশল হবে আমাদের একটা চ্যানেলে সবসময় প্রবাহ রাখা। প্রয়োজনে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নিয়মিত আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং রাখতে হবে। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখলে ভাঙন থেকে আমরা অনেকাংশে রক্ষা পাবো।

এজন্য কোনো ডুবোচর বা কোনো চর যদি থাকে, সেগুলো চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে বর্ষায় যখন পানির খুব চাপ বেড়ে যায় তখন সেই চাপ যেন আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, এজন্য একটা বাফার জোন থাকতে হবে, বাঁধের পাশাপাশি।

যাতে বাঁধ বা লোকালয়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে পানিগুলো সেখানে থাকতে পারে। আর বড় নদীর পাশে যেসব ছোট ছোট নদী থাকে, সেগুলো অনেক সময় ভরাট হয়ে যায়। সেগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। যার কারণে বড় নদী অনেক প্রশস্ত হয়ে যায়, আমাদেরকে প্লাবিত করে ফেলে বা বাঁধ ভেঙে ফেলে। এই কাজগুলো যে ড্রেজিং, ক্যাপিটাল ড্রেজিং, নিয়মিত ড্রেজিং, বাফার জোন তৈরি করা, ছোট ছোট নদীগুলো খনন করা, রক্ষণাবেক্ষণ করা – এগুলো আজকে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category