আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বাইডেনের হাত ধরে হোয়াইট হাউজে ফিরছে যে পুরানো ঐতিহ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

প্রায় দেড় শতকের পুরানো ঐতিহ্য ‘‌ডোটাস’-কে হোয়াইট হাউজে ফিরিয়ে আনছেন ভাবী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ‌’ডোটাস’ অর্থাৎ ‘ডগস অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’। ইতিহাস সাক্ষী, প্রায় সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই কুকুর ভাল বাসতেন। হোয়াইট হাউজের লনে ঘুরে বেড়াত তাদের পোষ্যরা।

রীতি ভেঙেছেন ট্রাম্প। অনেকের অভিমত, কুকুর পছন্দ করেন না ট্রাম্প। এবার সেই শূন্যস্থান ভরাট করতে বাইডেনের হাত ধরে হোয়াইট হাউজে ঢুকবে তার দুই জার্মান শেফার্ড ‘‌চ্যাম্প’‌ আর ‘‌মেজর’। তবে শুধু ট্রাম্পই নন, পোষ্য ছাড়াই প্রেসিডেন্ট প্যালেসে উঠেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস কে পোক এবং অ্যান্ড্রু জনসন।

পোষ্য হিসেবে শুধু কুকুরই নয়, বিভিন্ন সময়ের সাবেক প্রেসিডেন্টরা বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুত প্রাণী হোয়াইট হাউসে এনে রেখেছিলেন। সূত্রপাত প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের আমল থেকেই। পোষ্য হিসেবে একটি সারমেয় তো ছিলই। এছাড়াও ঘোড়া এবং বেশকিছু গৃহপালিত পশুদের নিয়ে তার পশুশালা নাকি বেশ আকর্ষণীয় ছিল।

তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিলেন ষষ্ঠ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন কুইনসি অ্যাডামস। হোয়াইট হাউজের পূর্ব দিকের ঘরের বাথটবে একটা বিরাট কুমির এনে রেখেছিলেন তিনি। যদিও সেটি উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন তিনি তৎকালীন ফরাসি সেনা আধিকারিক মার্কুই ডি লাফায়েতের কাছ থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভ্যান ব্যুরেনকে দু’‌টি বাঘের বাচ্চা উপহার দিয়েছিলেন ওমানের সুলতান।

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের পোষ্যদের সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল ওয়ারেন জি হার্ডিংয়ের এয়ারডেল ‘‌ল্যাডি বয়’‌।

প্রায় প্রত্যেকদিনই খবরের কাগজে তার ছবি ছাপত। খবর লেখা হত তাকে নিয়ে। সব সময় হার্ডিংয়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াত ল্যাডি। এমনকি, ‘‌হাই-ভোল্টেজ’ বৈঠকেও তাকে নিয়ে চলে যেতেন প্রেসিডেন্ট। শোনা যায়, প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর তিন দিন টানা আর্তনাদ করেছিল ল্যাডি।
হোয়াইট হাউজ চত্বরে ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা বানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন কেলভিল কুলিজ। কুকুর, সিংহ, হরিণ, ক্যাঙ্গারু, জলহস্তি- কী ছিল না সেখানে। শেকলে বাঁধা থাকত প্রিয় রেকুন ‘‌রেবেকা’। হোয়াইট হাউজে সাপ এনে হাজির করেছিলেন প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট। তার পশুশালায় ছিল ভাল্লুক, শিংওয়ালা ব্যাঙ, ঘোড়া, ব্যাজার (‌গর্তবাসী এক জাতীয় ক্ষুদ্রাকৃতির নিশাচর প্রাণী)।

শোনা যায়, ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের পুনরায় নির্বাচন জয়ের মূল কারিগরই ছিল নাকি তার পোষ্য ‘‌ফালা’। ‌ প্রেসিডেন্ট বুশও দুটো স্কটিশ টেরিয়ার কুকুর পুষতেন। ‘স্পটি’ নামে একটি ইংলিশ স্প্রিঙ্গার স্পেনিয়েলও ছিল তার। মেয়েদের বায়না রাখতে হোয়াইট হাউজে দু’‌টি পোর্তুগিজ ওয়াটার ডগ নিয়ে এসেছিলেন বারাক ওবামা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category