আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে দুর্ভাবনার কারণ রয়েছে

তোলপাড় ডেস্কঃ

দেশে করোনা পরিস্থিতি ভালো অবস্থায় নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৮৪২ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা ছিল গত ৫৬ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বুধবার দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৩৬। দেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি যখন এমন, তখন চলে এসেছে শীত। দেশের অনেক স্থানেই শীত পড়ে গেছে এবং শীতজনিত রোগের প্রকোপও দেখা দিয়েছে।

বলা বাহুল্য, শীতজনিত রোগ ও করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ ও উপসর্গ কাছাকাছি। ফলে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই কোনো রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নাকি শীতজনিত রোগে, তা নির্ধারণের জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষা অতি জরুরি। এজন্য সময় ও ব্যয় কমাতে দেশে দ্রুত অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানের আরটিপিসিআর পরীক্ষা পদ্ধতি যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনই ব্যয়বহুল। অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালু করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশিসংখ্যক মানুষের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

বস্তুত শীতের সময়টায় সমন্বিতভাবে করোনা ও শীতজনিত রোগ মোকাবেলা করতে হবে। ৯ মাসের বেশি সময় দেশে করোনা মহামারী পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শীত চলে আসায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কে করোনা রোগী আর কে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত- লক্ষণ ও উপসর্গ কাছাকাছি হওয়ার কারণে তা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হবে। এই জটিলতা নিরসনের জন্য অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে দ্রুত পরীক্ষা করা যেমন আবশ্যক, তেমনি শীতজনিত রোগগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থাও জোরদার করা দরকার। শীতে মানুষ সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, টনসিলাইটিস, ব্রংকিওলাইটিস, সাইনোসাইটিস, বাত, আর্থ্রাইটিস, চামড়ার শুষ্কতা ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। করোনার চিকিৎসার পাশাপাশি এসব রোগের প্রতি অবহেলা দেখানো চলবে না। বিগত বছরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শীত মৌসুমে দৈনিক ৫ হাজার মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হন। এতসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিন চিকিৎসা দেয়া মোটেই সহজ কাজ নয়। তাই এসব রোগের সুচিকিৎসার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের অন্যতম উপায় হল বেশিসংখ্যক মানুষের কোভিড পরীক্ষা করানো এবং একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর কড়াকড়ি আরোপ। বর্তমান সময়ে লক্ষ করা যাচ্ছে, সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে একধরনের ঢিলেঢালা ভাব কাজ করছে। স্বাস্থ্যবিধি, বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহারের প্রশ্নে গা-ছাড়া ভাব দেখিয়ে চলেছে অনেকেই। সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করার বিষয়টি একেবারে উঠেই গেছে বলা যায়। শীত মৌসুমে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে, তখন এ অবস্থা বিপজ্জনক বটে। এ পরিস্থিতির অবসান হওয়া চাই। করোনা ও শীতজনিত রোগের প্রতি অবহেলা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা আশা করব, শীত মৌসুমে একদিকে যেমন করোনা পরীক্ষার হার বাড়ানো হবে, অন্যদিকে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category