আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোক্তা হোন

তোলপাড় ডেস্কঃ

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ডিগ্রি নিয়েই চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করব, আরও ১০ জনকে চাকরি দেব, নিজে উদ্যোক্তা হব, নিজেই বস হব- সেই চিন্তা করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি, আমাদের তো সময় শেষ, কিন্তু যুবকরাই তো আসলে দেশের প্রাণ সঞ্চার করবে। কাজেই সেইভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে যাক, আমি সেটাই চাই।

যুব সমাজের আত্মকর্মসংস্থান শুরু বা স্টার্ট আপের জন্য মূলধন হিসেবে সরকার বাজেটে বরাদ্দ রেখেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিটি ক্ষেত্রটা এখন সব থেকে আধুনিক, সেজন্য যুবকদের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকার করছে। তিনি বলেন, সরকার কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশন করে দিয়েছে যার মাধ্যমে যুব সমাজ শুধু চাকরির পেছনে ছুটবে না, চাকরি দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে, নিজেরা নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ বছরের বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ২১ জন স্বনির্ভর যুবক এবং কর্মসংস্থানে ৫টি সফল যুব সংগঠনের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেয়া হয়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ অখতার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে সাইফুর রহমান এবং সামিয়া রহমান অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আমাদের যুব সমাজ ঘরে বসেই অনেক টাকা উপার্জন করতে পারছে। তবে এটারও স্বীকৃতির দরকার রয়েছে। তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের একটা অসুবিধা আছে আমি জানি। তাদের রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছে না, সার্টিফিকেটও নেই, স্বীকৃতিও নেই। সেটা নিয়েও আমরা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে (প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা) আলোচনা করে, আমাদের আইসিটি মিনিস্ট্রি, যুব মন্ত্রণালয় এবং সবাই মিলে উদ্যোগ নিচ্ছি- যারা এ ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করবেন তারা যেন একটা স্বীকৃতি পান বা সনদ পান।’

তিনি বলেন, কোনো কাজে গেলে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের সোর্স অব ইনকাম দেখাতে পারেন না, সেজন্য আমরা এ বিষয়ে স্বীকৃতির চিন্তা-ভাবনা করছি। যাতে তারা কাজ করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে আমরা যুব সমাজকে গড়ে তুলব এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গড়ে তুলব; যাতে বাংলাদেশটা একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে বিশ্বে এগিয়ে যেতে পারে।

রেডিও, টিভি এবং মোবাইল ফোনকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিয়ে যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিকে মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কম্পিউটার প্রযুক্তি থেকে শুরু করে জনগণের আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান যেন বিকশিত হয় সেই পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছি। বহুমুখী শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, কলেজ, ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট এবং ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের ব্যবস্থা আমরা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আসার পর দেশের অর্থনীতি যেমন গতিশীলতা পেয়েছে তেমনি আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশপথে বাধ্যতামূলক করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টিনে রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আবার সময় এসে গেছে, যারা বাইরে থেকে আমাদের দেশে আসবেন তাদের পরীক্ষা করা এবং কোয়ারেন্টিনে রাখা। এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি পোর্টে আগের মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্যই এটা করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পুনরায় ব্যাপকভাবে দেখা দেয়ায় ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লকডাউন করা হয়েছে। কাজেই আমাদের সবাইকে একটু সুরক্ষিত থাকতে হবে। যে কোনো কাজে সবাই মাস্ক ব্যবহার করবেন। জনসমাগম বা মার্কেটে গেলে বা কারও সঙ্গে মিশলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা দিয়েছি যেন আমাদের অর্থনীতির গতিটা অব্যাহত থাকে। যথাযথ পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনীতি এখনও সচল রয়েছে, যেটা অনেক উন্নত দেশও এখন করতে পারছে না। আজকে আমাদের মাথাপিছু আয় ২০৬৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। রিজার্ভ আজকে ৪১ বিলিয়ন এবং বিদেশ থেকে সরাসরি বিনিয়োগ আনারও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্র প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশের টানেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প এবং রাস্তা-ঘাটসহ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করেন।

সরকার মুজিববর্ষে শতভাগ গৃহ আলোকিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ দিচ্ছি, রাস্তা-ঘাট করে দিচ্ছি, পাশাপাশি নৌপথ, রেলপথ, বিমান সব পথ উন্মুক্ত করে দেয়ার একটাই উদ্দেশ্য- আমাদের যুব সমাজের মাঝে যে মেধা, মনন আছে তা যেন তারা কাজে লাগাতে পারে।

সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদক- এ ধরনের কাজের সঙ্গে যেন কেউ সম্পৃক্ত না হয়। জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের যে অবস্থান সেটা কঠোর থাকবে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট এবং খাম অবমুক্ত করা হয়। মুজিবর্ষের আহ্বান, যুব কর্মসংস্থান, এ প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category