কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ★
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের একটি দানের গরু নিলামে কিনেও প্রায় এক বছর ধরে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে মো. জীবন মিয়া নামের এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মসজিদ প্রশাসনের দাবি, গরুটি ৫৫ হাজার টাকায় কেনার পর বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও বিএনপি দলীয় প্রভাব কাটিয়ে এখনো সেই টাকা পরিশোধ করেননি তিনি।
মসজিদ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত নিলামে দানের একটি গরু ৫৫ হাজার টাকায় কিনে নেন জীবন মিয়া। নিলামের নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো অর্থ পরিশোধ করার কথা থাকলেও সে সময় কোনো টাকা দেননি তিনি। এরপর প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো সেই টাকা পরিশোধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও নিলাম সেন্ড্রিকেট করে সকল প্রকার দানের জিনিসপত্র নিয়ে নেয় জিবন মিয়ার একটি শক্তিশালী চক্র।
পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুবায়ের আহমেদ বলেন, নিলামের গরুর টাকা আদায়ের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু টাকা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা এখানে চাকরি করি, তাই নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কিছু বলতে গেলেই হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না কারন আমি এখানে কয়েক মাস হয় এসেছি। কেউ আমাকে বিষয়টি জানায়ওনি। নিলামের গরু বাকিতে বিক্রি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি তদন্ত করে খুব শিঘ্রই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জীবন মিয়া নিজেকে কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দাবি করলেও পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক জানিয়েছেন, ওই ওয়ার্ডে বিএনপির কোনো কমিটিই নেই। তার ভাষ্য, কেউ যদি দলের পদ ব্যবহার করে থাকে, সেটি অসাংগঠনিক।
স্থানীয়দের দাবি, পাগলা মসজিদের নিলাম কার্যক্রম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। দানের সামগ্রী কম দামে হাতিয়ে নেওয়া, প্রভাব খাটানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। জিবন মিয়া নিলাম সেন্ড্রেকেটের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে আছে বলে তার মন্তব্য নেয়া স¤ভব হয়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাগলা মসজিদে দানের মালামাল নিলামে বিক্রির সময় তার নেতৃত্বে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আলম ফয়সাল ও গ্লোবাল টিভির জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূঁইয়া পিংকু গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক পিংকু বাদী হয়ে একই দিন জীবন মিয়াকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা জানান, মামলার পর অভিযান চালিয়ে জীবন মিয়া ও মনা নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


















