মিজানুর রহমান
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদে মৃত্যু সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও গোপনে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী স্বর্ণা রানী সূত্রধর আচমিতা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে মৃত্যু সনদ পেতে তার কাছ থেকে গোপনে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। অর্থ প্রদানের পরই তাকে মৃত্যু সনদ সরবরাহ করা হয় বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামসুজ্জামান সোয়েব এবং ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর গোলাপ মিয়ার বিরুদ্ধে অননুমোদিতভাবে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়, মৃত্যু সনদের বিষয়ে প্রথমে ভুক্তভোগী ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামসুজ্জামান সোয়েবের কাছে গেলে তিনি সরাসরি বলেন—
“গোলাপের কাছে ৫০০ টাকা দিয়ে আসেন।”
এরপর ভুক্তভোগী কম্পিউটার অপারেটর গোলাপ মিয়ার কাছে ওই অর্থ প্রদান করেন।
একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্যের পর সরকারি সেবা পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংবাদকর্মী একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার এই নীরবতা অভিযোগের বিষয়টিকে আরও সন্দেহের মুখে ফেলেছে।
পরবর্তীতে ইউপি সদস্য শামসুজ্জামান সোয়েবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আপনার কাছে যদি অভিযোগ থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নিন।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে আরেকজন ইউপি সদস্য অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে উল্টো সংবাদকর্মীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে বলেন—সঠিক তথ্য দিতে না পারলে ক্ষমা চাইতে হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীর দাবি, অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, জন্ম ও মৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় গোপনে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

















