নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পরিচালিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দাখিলকৃত মোট মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী তাঁদের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যার বিপরীতে ৩ হাজার ৪০৬টি ফরম সংগৃহীত হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় দলিলাদি ও তথ্যের অসংগতির কারণে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ আসনের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ওই এলাকার প্রক্রিয়া সমাপ্ত ঘোষণা করেছে কমিশন।
যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থিতা বাতিলের খবর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুন্নুর দাখিলকৃত চিঠিতে স্বাক্ষরিত নেতৃত্বের তথ্যের সাথে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া বিএনপির ১৩ জন প্রার্থীর আবেদনও বিভিন্ন আইনি কারণে বাতিল করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেনীর তিনটি আসনে ১২ জন, চট্টগ্রামের সাতটি আসনে ১৬ জন এবং ময়মনসিংহের বিভিন্ন আসনে ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফজলুল হকের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য অস্পষ্ট থাকার এবং প্রয়োজনীয় নথি দাখিলে ব্যর্থ হওয়ার কারণে। এছাড়া নওগাঁ, মানিকগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং বগুড়ার মতো জেলাগুলোতেও বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বগুড়ায় মাত্র দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তথ্যে ভুল থাকার কারণে উভয়েরই প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। কুষ্টিয়ায় ছয়জন এবং দিনাজপুরে তিনজন প্রার্থীর আবেদন নাকচ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঋণখেলাপি হওয়া, ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল, আয়কর নথি দাখিল না করা এবং স্বাক্ষর জটিলতার কারণেই প্রার্থীরা এই প্রাথমিক ধাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন। তবে যারা এই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন, তাঁরা আগামীকাল থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন, যার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আরও কিছুটা পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


















