মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১০:০৯ অপরাহ্ন

ভৈরবে ইতালি প্রবাসীর লাশ বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন, নমুনা সংগ্রহ

ভৈরব প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ইতালি প্রবাসী আব্দুল খালেকের (৬৫) মরদেহ বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মীরা সকালে ভৈরবে ওই প্রবাসীর বাড়িতে আসেন। তারা মৃতের শরীরে করোনাভাইরাস আছে কি-না তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় চলে যান।

এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থায় মরদেহটি পলিথিনে মুড়িয়ে সিলগালা করে দেয়। এ সময় প্রশাসনের ৪/৫ জন কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়া বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী বা গ্রামের কোনো লোকজন উপস্থিত ছিলেন না। এ খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিশেষ নিরাপত্তায় মরদেহটি দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের পৌর কবরস্হানে নেয়া হয়। সেখানে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতিতে তার জানাজা শেষে দুপুর ১টায় দাফন করা হয়।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রি খিসা, পুলিশের কয়েকজন সদস্য নিরাপত্তার জন্য কবরস্থানের কিছু দূরে উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ দাফন শেষ করে দুপুর দেড়টায় প্রশাসনের লোকজন কবরস্থান এলাকা ত্যাগ করেন।

গতকাল রোববার (২২ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইতালি প্রবাসী আব্দুল খালেক। তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইতালি থেকে দেশের বাড়িতে ফেরেন। শ্বাসকষ্ট ও জ্বর দেখা দেয়ায় পরিবারের সদস্যরা রোববার সন্ধ্যায় তাকে শহরের আবেদন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে রাতে তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা রাতেই তার মরদেহ শহরের বাসায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে রাতেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা, সদস্য সচিব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাহালুল খাঁন বাহার ওই বাড়িতে ছুটে যান এবং দুটি হাসপাতাল ও মৃতের বাড়িসহ আশপাশের ১০ বাড়িতে লোক সমাগম সীমিত করে দেন। এরপর ঘটনাটি রাতে জেলা প্রশাসনসহ ঢাকায় আইইডিসিআরকে জানানো হয়।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, ওই প্রবাসী করোনাভাইরাসে মুত্যুবরণ করেছেন কি-না তা আমরা জানি না। তবে বিষয়টি পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআর কর্মীদের খবর দিলে তারা সোমবার সকালে ভৈরব আসেন। এ সময় তারা নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় তার মরদেহ পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রি খিসা জানান, মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে দুটি হাসপাতাল ও নিহতের বাড়িসহ প্রতিবেশীর ১০টি বাড়িতে লোক সমাগম সীমিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানার নির্দেশে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: