মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১০:৪০ অপরাহ্ন

মধ্যরাতে ধরে এনে সাংবাদিককে কারাদণ্ড বেআইনি : টিআইবি

তোলপাড় ডেস্ক :
মধ্যরাতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মোবাইল কোর্টে বিচার করে কারাদণ্ড দেওয়ার পুরো ঘটনাকেই বেআইনি বলে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

শনিবার (১৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে টিআইবি দাবি করেছে, আইনের এমন যথেচ্ছ অপপ্রয়োগ আইনের শাসনের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের পরিপন্থি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর নামান্তর। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রশাসন তথা সরকারের ওপরই জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদের সূত্র ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন আছে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। সে অনুযায়ী মধ্যরাতে কোনো নাগরিককে ঘর থেকে তুলে এনে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনা করাটা অবৈধ। যে সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তিনি যদি সন্দেহের তালিকায় থাকতেন তাহলে তাকে নজরদারিতে রাখা যেত। কিংবা অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ অভিযান চালাতে পারত। আরও গুরুতর মনে হলে ম্যাজিস্ট্রেট তার বাসা সিলগালা করে দিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রাতের বেলা দরজা ভেঙে একজন নাগরিককে তুলে আনা এবং পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়াটা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি বলেন, আমরা যতটুকু বুঝি, তাতে মোবাইল কোর্টের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা, কিন্তু তা না করে ওই সাংবাদিককে তুলে আনার পর কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে পুরো ঘটনাটির পেছনেই যে অপরাধ দমন নয় বরং অন্য কোনো বিবেচনা কাজ করেছে তা স্পষ্ট।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এরই মধ্যে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিকের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন তার স্বামীকে আটক করার পর নগ্ন করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা থাকলে, তা কেবল আইনের অপব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং যে বা যারা এই ঘটনায় জড়িত, তারা সরাসররি ফৌজদারি অপরাধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমরা দাবি করছি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটি দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য প্রতিবেদন দেবেন এবং এমন জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ গৃহীত হবে যার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও তার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন করে আসছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করার জন্যই যদি তাকে এমন বেআইনিভাবে তুলে এনে বিচার করা হয়ে থাকে, তবে সেটা দেশের জন্য এক অশনি সংকেত। কারণ সেক্ষেত্রে এই পুরো ঘটনা প্রবাহকে বিবেচনা করতে হবে গণমাধ্যমের জন্য একটি সতর্ক বার্তা হিসেবে, যার সরাসরি অর্থ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করা যাবে না।

দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার অঙ্গীকার করেছেন, সেখানে প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার এমন আচরণ গুরুতর অসদাচারণ এবং সরকারকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই ঘটনা গুরুতর বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ওই সাংবাদিক পরিবারের অভিযোগের সুরাহা করে, দায়ীদের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান ড. জামান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: