মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১০:৫২ অপরাহ্ন

আগামী ২২ মা’র্চ দিবাগত রাতে শবে মেরাজ

ইসলাম ডেস্ক :
সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বাংলাদেশে আগামী ২২ মা’র্চ দিবাগত রাতে শবে মেরাজ পালন করবেন মুসলমানরা। এরপরদিন ২৩ মা’র্চ থাকবে ঐচ্ছিক ছুটি। আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সি’দ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধ’র্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে বুধবার থেকে রজব মাস গণনা শুরু হবে। তাই ২৬ রজব বা ২২ মা’র্চ দিবাগত রাতে সারা দেশে সরে মেরাজ পালিত হবে।’

এদিকে ইসলাম ধ’র্মীয় বিশ্বা’স অনুযায়ী, বিশ্বনবী হযরত মুহা’ম্ম’দ (সা.) নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিনগত রাতে আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন। তিনি আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়ায় প্রত্যাব’র্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টিজগতের সমস্ত কিছুর অ’পার রহস্য।

হজরত মুহা’ম্ম’দ (সা.) এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ‘মিরাজ’। হযরত মুহা’ম্ম’দ ছাড়া অন্য কোনো নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। এ মেরাজ রজনীতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। এজন্য মুসলিম ধ’র্মালম্বীদের কাছে মিরাজের তাৎপর্য অনেক গু’রুত্ব বহন করে।

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম মোহা’ম্ম’দ। ২০০৮ থেকে গত ১১ বছর ধরে এই ধা’রা অব্যা’হত রয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

জানা গেছে, নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অস্কার, আকসেল এবং জ্যাকব এ ধরনের নামকে টপকে মোহা’ম্ম’দ নামটি প্রথম হয়েছে। অন্যদিকে লুকাস, ফিলিপ ও অলিভারকে দেশব্যাপী ছেলেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ইমা নামটি দেশব্যাপী শীর্ষস্থান দখল করেছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, অসলোতে মুসলমানদের সংখ্যা দ্রুত বৃ’দ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এখানে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধ’র্মের অনুসারী।
সেখানে পাকিস্তান, সোমালিয়া, ইরাক ও মর’ক্কোর অ’ভিবাসীরা একটি বৃ’হত্তম মুসলিম সম্প্রদায় তৈরি করেছে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব প্রবীণ আলেমে-দ্বীন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, হিন্দু ধ’র্মাবলম্বীদের পূজার অনুষ্ঠানে মুসলমানদের শরীক হওয়াকে সমর’্থন ও উৎসাহিত করে “ধ’র্ম যার যার, উৎসব সবার” এহে’ন উক্তি বা বক্তব্য দেয়া ইসলাম ও যুক্তি বিরোধী। হিন্দু ধ’র্মানুসারীরাও এ ধরনের বক্তব্যকে স্বীকার করবেন না। তিনি বলেন, বৃহৎ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে সকল ভিন্ন ধ’র্মাবলম্বী জনগণ অবশ্যই পূর্ণ নাগরিক অধিকার ও সকল প্রকার সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা ভোগ করবেন। রাষ্ট্র এ জন্য যথাযথ উদ্যোগ নিবে। কিন্তু এ পর্যায়ে মুসলমানদের ধ’র্মীয় স্বাতন্ত্র্যবোধকে ভিন্নধ’র্মের সাথে একাকার করে নিতে চাওয়ার সুযোগ নেই।আজ (১৬ অক্টোবর) মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, গরু জবাই করা ও গরুর মাংস খাওয়া হিন্দুশাস্ত্রে নি’ষি’দ্ধ থাকলেও ইসলামে নি’ষি’দ্ধ নয়। কিন্তু ধ’র্মনিরপেক্ষ ভারতে মুসলমানদের এই ন্যায্য ধ’র্মীয় অধিকারে সহিং’স উপায়ে বাধা দেওয়া হয়। অ’পরদিকে মূর্তিপূজা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, অথচ হিন্দুধ’র্মে এটাই উপাসনা ও পুণ্যের কাজ। কিন্তু মুসলমানরা ইসলামে নি’ষি’দ্ধ মূর্তি পূজায় হিন্দুদেরকে কখনোই বাধা দেওয়ার দাবি বা আওয়াজ তুলেনি এবং এটাকে ন্যায্য বলেও বিশ্বা’স করে না।

জমিয়ত মহাসচিব আরো বলেন, এটা সকলেরই স্মর’ণ রাখা দরকার, ঈদ বা পূজা জাতীয় ও সামাজিক কোন রীতি অনুষ্ঠান নয়, এটা একেবারেই ধ’র্মীয় উৎসব। ধ’র্মীয় যে কোন আয়োজন-উৎসবে প্রত্যেক ধ’র্মাবলম্বীরই স্বাতন্ত্র্যবোধ থাকা বাঞ্ছনীয়।

তিনি বলেন, একটি বি’ষয় মুসলমানদের জেনে রাখা জরুরি যে, অমুসলিম’দের প্রতি ইনসাফভিত্তিক নাগরিক আচরণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ মনোভাব রাখা ইসলামের শিক্ষা। অমুসলিম’দেরকে সব ধরনের সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতা দেওয়াতে ইসলাম কোনরূপ বাধা দেয় না। কিন্তু তাদের ধ’র্মীয় উপাসনা, পূজা বা আরাধনায় যে কোনরূপ অংশ নেয়া মুসলমানের জন্যে অবশ্যই হারাম। নিজে পূজা করা যাব’ে না, প্রতিমা তৈরিতে ব্যক্তিগত অর্থসাহায্য করা যাব’ে না, উপাসনায় দৈহিক, মানসিক, আর্থিক কোন ধরনের সহায়তা দেয়া যাব’ে না। যদি কোন মুসলমান ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমুসলিম’দের পূজা অর্চনায় শরীক হয়, পূজা অনুষ্ঠান উপভোগ করে, দেব-দেবীর কাছে সুখ-শান্তি ও সমৃ”দ্ধি কামনা করে, দেবীর বিভিন্ন গু’ণকীর্তন করে, তাহলে সে কোনভাবেই আর মুসলমান থাকে না।

তিনি বলেন, মুসলমানদের পবিত্র কুরবানীর উৎসবে শরীক ‘হতে কোন হিন্দুকে আহবান করার যেমন যৌ’ক্তিক ব্যাখা নেই, ঠিক তেমনি ইসলামে কঠোরভাবে নি’ষি’দ্ধ মূর্তিপূজা ও শিরক অনুষ্ঠানে শামিল ‘হতে কোন মুসলমানকেও আহবান জানানোর সুযোগ থাকতে পারে না। এই সাধারণ বি’ষয়টা আল্লাহ-রাসূলে বিশ্বা’সী সকল মুসলমানকে সহজেই উপলব্ধিতে নিতে হবে।

আল্লামা কাসেমী বলেন, আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের মুসলমানরা সংখ্যালঘু নাগরিকদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তার প্রতি সবসময় আন্তরিক। সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হওয়ার মতো। প্রতিবেশি দেশ ভারতের মতো এই দেশে সংখ্যালঘুদের বিরু’দ্ধে কোন মুসলিম ধ’র্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা কখনো বক্তব্য তো দেনইনি; বরং এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা সংখ্যালঘুদের জান-মালের সুরক্ষা দেওয়াকে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করেন।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, আমা’দেরকে সতর্ক থাকতে হবে যে, সেক্যুলার মতাদর্শীরা নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে এদেশের মুসলমানদেরকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যেখানে মুসলমানদের ধ’র্মীয় চেতনাবোধ বলে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। দেখা যাব’ে, মুসলমান নারী-পুরুষরা একদিকে নামায পড়ছেন, দাড়ি-টুপি ও হিজাব পালন করছেন।

আবার দাড়ি-টুপি ও হিজাব নিয়েই নাচ-গান ও পূজায় শরীক হওয়াসহ বিভিন্ন অনৈসলামিক কাজেও নিঃসংকোচে শামিল হচ্ছেন। অথচ কয়েক বছর আগেও দেখা যেত, সাধারণ-নাটক সিনেমা দেখার সময়ও ধ’র্মভীরুতার ফলে মাথায় টুপি থাকলে সেটা খুলে রাখতে। হিজাবহীন এমন মুসলিম নারীকে দেখা যেতো, আযানের আওয়াজ শুনলে বা কোন ধার্মিক পুরুষ মানুষ সামনে পড়লে মাথায় ওড়না টেনে নিতেন।

এখন স্বাভাবিকভাবে এমন ধ’র্মভীরুতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেক্যুলারিজমের কুফল এভাবেই মনের অজান্তেই মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধকে ধ্বং’স করে দিচ্ছে। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে মুসলিম জাতিসত্তার জন্য অত্যন্ত ভ’য়াবহ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: