মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

ভাঙল শাবনূরের সংসার

ডেস্ক রিপোর্ট :
বনিবনা না হওয়ার কারণ দেখিয়ে সাত বছরের সংসার জীবনের ইতি টানছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর। গত ২৬ জানুয়ারি স্বামী অনিককে তালাক দিয়েছেন শারমীন নাহিদ নূপুর ওরফে শাবনূর।

নিজের সই করা নোটিশটি তিনি অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদের মাধ্যমে স্বামীকে পাঠিয়েছেন। নোটিশে অনিকের সঙ্গে ‘বনিবনা হয় না’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে শাবনূর উল্লেখ করেছেন, ‘আমার স্বামী অনিক মাহমুদ হৃদয়, আমার এবং সন্তানের যথাযথ যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন না। সে মাদকাসক্ত। অনেকবার মধ্যরাতে মদ্যপ অবস্থায় বাসায় এসে আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমাদের ছেলের জন্মের পর থেকে সে আমার কাছ থেকে দূরে সরে থাকছে এবং অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আলাদা বসবাস করছে।’

শাবনূর আরও উল্লেখ করেন, ‘একজন মুসলিম স্ত্রীর সঙ্গে তার স্বামী যে ব্যবহার করেন অনিক সেটা করছেন না, উল্টো নানাভাবে আমাকে নির্যাতন করে। এসব থেকে তাকে ফেরানো যাচ্ছে না। বরং ওর নির্যাতন আরও বাড়তে থাকে। উপরোক্ত কারণগুলোর জন্য মনে হয়েছে তার সঙ্গে আমার আর বসবাস করা সম্ভব নয় এবং আমি কখনো সুখী হতে পারব না।

তাই নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং সুন্দর জীবনের জন্য তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছেদ করতে চাই। মুসলিম আইন এবং শরিয়ত মোতাবেক আমি তাকে তালাক দিতে চাই। আজ থেকে সে আমার বৈধ স্বামী নয়, আমিও তার বৈধ স্ত্রী নই।’

জানা গেছে, নোটিশের অনুলিপি অনিকের এলাকার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং কাজী অফিস বরাবরও পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাক্ষী রয়েছেন মো. নুরুল ইসলাম ও শামীম আহম্মদ নামে দুজন।

শাবনূর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। বিষয়টির সত্যতা জানতে একাধিকবার তার হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন তালাকের নোটিশ এবং হলফনামা প্রস্তুতকারী অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘গত ২৬ জানুয়ারি অনিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করেছেন শাবনূর। গত ৪ ফেব্রুয়ারি অনিকের উত্তরা এবং গাজীপুরের বাসার ঠিকানায় সেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আইনগতভাবে তাদের এই তালাক কার্যকর হবে ৯০ দিন পর।’

এদিকে, বিষয়টির সত্যতা জানতে শাবনুরের ঘনিষ্ঠজন নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘ডিভোর্সের বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে ওদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না এটা আমি জানি এবং বেশ কয়েক মাস ধরে ওরা আলাদা থাকছে। ওর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীতে বিষয়টি জানাতে পারবো।’

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন শাবনূর। স্বামী যশোরের ছেলে অনিক মাহমুদ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পেশায় ব্যবসায়ী। বিয়ের পরের বছরই এ দম্পতির ঘর আলোকিত করে আসে এক পুত্রসন্তান। ছেলে আইজান নিহানকে নিয়েই শাবনূর এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: