শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১০:১৮ অপরাহ্ন

পাগলা মসজিদ দানবাক্সে খুলে পাওয়া গেলো দেড় কোটি ১৮হাজার টাকা, বিপুল সোনা-রূপা

বিশেষ প্রতিনিধি.
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স সিন্দুক থেকে এবার এক কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকা পাওয়া গেছে। যা দানবাক্সগুলো থেকে পাওয়া দানের হিসাবে গত বারের চেয়ে ৬৬ হাজর ১০০টাকা কম। গতবার (২৬ অক্টোবর ২০১৯) তারিখে দানবাক্স খোলে এক কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় গণনা শেষে এই টাকার হিসাব পাওয়া যায়। কিশোরগঞ্জের এ ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক এবার তিন মাস ১৯ দিন পর খোলা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি সিন্দুক খোলা হয়। সিন্দুকগুলো খোলার পর সবার চোখ যেন কপালের উঠার অবস্থা। সিন্দুক থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা, ১০০০ টাকার হাজার হাজার কচকচে নোট। পরে সিন্দুক থেকে এসব টাকা বস্তায় ভরা হয়। এরপর শুরু হয় গণনার কাজ। গণনা চলে দিনব্যাপী। গণনার পর হিসাবে আসে টাকার পরিমাণ দেড় কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। শুধু কি টাকাই পাওয়া গেছে তা নয়? টাকার ভাঁজে ভাঁজে ছিল স্বর্ণের চাঁদ-তারা, রুপার চাঁদ-তারা, অলঙ্কারাদি ইত্যাদি। সেই সাথে বিদেশি মুদ্রা। এইসবের অর্থ মূল্য অর্ধ কোটি টাকার পরিমাণ হবে বলে গণনার কাজে জড়িত অনেকে ধারণা করেছেন।
এবার টাকা গণনায় মসজিদ মাদ্ররাসার ৬০ জন ছাত্রশিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার তত্ত্বাবধানে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি, মাহামুদুল হাসান এবং মো. উবায়দুর রহমান সাহেল, সিন্দুক কমিটির সদস্যসহ রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার সব পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ টাকা গণনার কাজ তদারকি করেন। টাকা গণনার এই এলাহী কান্ড নিজ চোখে দেখার জন্য শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ মসজিদে ছুটে যান। পাগলা মসজিদের দানবাক্সে টাকা পয়সা স্বর্ণালঙ্কার দান করা ছাড়াও প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটিতে হাঁস-মুরগীসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন। লোকজনের ধারণা, খাস নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনের আশা পূরণ হয়। সেজন্য দূর-দূরান্ত থেকেও অসংখ্য মানুষ এখানে দান করে থাকেন। শুধু মুসলিমরাই নন অন্য ধর্মেও মানুষেরাও এখানে দান করেন।
টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, এবার পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক খোলে এক কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকা পাওয়া গেছে। টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এছাড়া এবার ডলার, রিয়ালসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে। বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও অন্যবারের চেয়ে এবার পরিমাণে বেশি পাওয়া গেছে বলে গোলাম মোস্তফা জানান। এর আগে ২০১৯ সনের ১৩ জুলাই এক কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সর্বশেষ গত ২৬ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে দানবাক্স খোলে এক কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৮ টাকা পাওয়া যায়। যা দানবাক্সগুলো থেকে গতবারের চেয়ে এবার ৬৬ হাজর ১০০ টাকা কম পাওয়া যায়। শনিবার সন্ধ্যায় গণনা শেষে এই টাকার হিসাব পাওয়া যায়।
মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, তিন মাস পর পর এ মসজিদের দানের সিন্দুকগুলো খোলা হয়। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ পাগলা মসজিদে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য মানুষ এখানে দান করে থাকেন।
জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে এ মসজিদটির অবস্থান। দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপে¬ক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপে¬ক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের আয় থেকে মসজিদের উন্নয়ন, এতিমখানা, মাদ্রাসা, জটিল রোগীদের চিকিৎসায় অর্থসাহায্যসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: