বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

আরেকটু সুযোগ পেলে ভালো রেজাল্ট করতাম, এমপি হারুনের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী

কোলপাড় ডেস্ক :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষা জীবনে লেখাপড়ার আরেকটু সুযোগ পেলে ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদের প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, সংসদ সদস্যের (হারুনুর রশীদ) কথায় মনে হচ্ছে, যারা ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ে তারাই মেধাবী, আর যারা বাংলা মিডিয়ামে পড়ে তারা মেধাবী না। আমরা নিরেট বাংলা মিডিয়ামে পড়েছি। হয়তো মেধাবী না, তবে একেবারে খারাপও না। আরেকটু লেখাপড়ার সুযোগ পেলে ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম।

এমপি হারুন প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা। এটা বন্ধের উদ্যোগ নেবেন কি না। ব্যাপক বেকারত্ব দূর করতে বিশেষভাবে মেধাবীদের সুযোগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন কি না।

আদালতের নির্দেশনার কথা তুলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা ব্যবস্থার চালুর দাবি জানান বিএনপির এই এমপি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা রাজধানীর অগ্রণী স্কুলে পড়েছেন। পরে ঢাকার সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ থেকে পাস করে ঢাবিতে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৩ সালে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী এম ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শেখ হাসিনা ষাটের দশকের সেই উত্তাল সময়ে স্কুল-কলেজ জীবন পার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান তখন বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন। পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেই সংগ্রামে একটি বড় সময়ই বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে থাকতে হতো। বার বার বন্দি হওয়ায় বাবাকে ভাই-বোনদের কাছে না পাওয়ার বেদনার কথা বিভিন্ন সময় বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব ঘটনা তার শিক্ষা জীবনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ছে, তাদের জন্য কেন কোটা রাখতে হবে? কোটা রাখার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। বিদেশে লেখাপড়া করে দেশে এলে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। শিল্পায়ন করছি, সব কিছু বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখানে চাকরির সমস্যা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর প্রায় ২ কোটির মতো চাকরির সুযোগ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, বিদেশে গিয়েও অনেকে ফিরে আসে। এত বিশাল জনসংখ্যা সেখান থেকে কর্মসংস্থানে গেলে এমনিতেই উৎসাহিত করি। পৃথিবী এখন গ্লোবাল ভিলেজ। যারা যাচ্ছে, মেধাবীর অভাব হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: